কুরআন হাতে শপথ নিয়ে ইতিহাস গড়লেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
১ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ৪:২২ পিএম
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় কুরআনে হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছেন জোহরান মামদানি, পাশে স্ত্রী রামা দুওয়াজি। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় কুরআনে হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছেন জোহরান মামদানি, পাশে স্ত্রী রামা দুওয়াজি। ছবি: সংগৃহীত

শপথ গ্রহণের সময় জোহরান মামদানি দুটি কুরআনে হাত রাখেন। এর একটি ছিল তাঁর দাদার ব্যক্তিগত কুরআন, আর অন্যটি একটি পকেট-আকারের প্রাচীন কুরআন। অনুষ্ঠানজুড়ে তাঁর পাশে ছিলেন স্ত্রী রামা দুওয়াজি।

সাধারণত নিউইয়র্ক সিটির মেয়ররা বাইবেলে হাত রেখে শপথ নেন। তবে আইনে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় গ্রন্থ ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা নেই। সে কারণেই মামদানির এই সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত বিশ্বাসের প্রতিফলন হলেও তা শহরের ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

৩৪ বছর বয়সী জোহরান মামদানি নিউইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম মেয়র। একই সঙ্গে তিনি প্রথম দক্ষিণ এশীয় এবং প্রথম আফ্রিকায় জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তি, যিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হলেন—এ তথ্য জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।

নির্বাচনী প্রচারণায় মামদানি জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বাসস্থান সংকট এবং সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি নিজের মুসলিম পরিচয় নিয়েও ছিলেন স্পষ্ট ও আত্মবিশ্বাসী। ধারাবাহিক প্রচারণার মাধ্যমে তিনি দক্ষিণ এশীয় ও মুসলিম ভোটারদের মধ্যে শক্ত সমর্থন গড়ে তুলতে সক্ষম হন।

শপথ অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত প্রাচীন কুরআনটি নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির শোমবার্গ সেন্টার ফর রিসার্চ ইন ব্ল্যাক কালচারের সংগ্রহের অংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ১৮শ শতকের শেষভাগ বা ১৯শ শতকের শুরুর দিকের অটোমান আমলের একটি পান্ডুলিপি, যা বর্তমান সিরিয়া, লেবানন, ইসরায়েল, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড বা জর্ডানের কোনো অঞ্চলে তৈরি হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

কুরআনে হাত রেখে শপথ নেওয়ার সিদ্ধান্তে কিছু রক্ষণশীল মহল সমালোচনা করলেও সমর্থকদের মতে, এটি নিউইয়র্ক সিটির বহুসাংস্কৃতিক ও বহুধর্মীয় পরিচয়েরই প্রতিফলন। শপথ গ্রহণের পর প্রাচীন কুরআনটি জনসাধারণের প্রদর্শনের জন্য নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরিতে রাখা হবে।

ইতিহাসের এই ব্যতিক্রমী শপথের মধ্য দিয়ে জোহরান মামদানির মেয়র হিসেবে পথচলা শুরু হলো। তাঁর নেতৃত্বে নিউইয়র্ক সিটি কীভাবে সামাজিক বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে, তা এখন সবার নজরে।