Something went wrong
জার্মান গবেষণা বলছে

ইসরাইলি আগ্রাসনে গাজায় নিহত সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
২৫ নভেম্বর, ২০২৫ এ ৩:৩১ এএম
ইসরাইলি হামলার ধ্বংসস্তূপে বিপর্যস্ত গাজা—জার্মান গবেষণায় মৃত্যুর সংখ্যা আরও ভয়াবহ মাত্রা পেয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ইসরাইলি হামলার ধ্বংসস্তূপে বিপর্যস্ত গাজা—জার্মান গবেষণায় মৃত্যুর সংখ্যা আরও ভয়াবহ মাত্রা পেয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় চলমান ইসরাইলি আগ্রাসনের দুই বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এই সময়সীমায় এক লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটেছে বলে নতুন একটি গবেষণায় জানিয়েছে জার্মানির সুপরিচিত গবেষণা প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বার্তাসংস্থা আনাদোলুর মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।

জার্মান সাপ্তাহিক পত্রিকা জাইট–এ প্রকাশিত গবেষণা বলছে, এতদিন গাজায় মৃত্যুর যে সরকারি হিসাব পাওয়া গেছে, বাস্তবে প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়ে বহুগুণ বেশি হতে পারে। রস্টকে অবস্থিত ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর ডেমোগ্রাফিক রিসার্চের গবেষকেরা পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখিয়েছেন যে দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধেও অন্তত এক লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যবর্তী অনুমান অনুসারে মৃতের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার।

গবেষণা প্রকল্পের সহনেতা ইরিনা চেন জানান, সঠিক মৃতের সংখ্যা কখনোই জানা নাও যেতে পারে। তবে যতটা সম্ভব বাস্তবসম্মত একটি চিত্র তুলে ধরাই তাদের লক্ষ্য। গবেষকেরা গাজাভিত্তিক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের পাশাপাশি স্বাধীন সমীক্ষা, পরিবারভিত্তিক জরিপ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত মৃত্যুসংবাদ বিশ্লেষণ করে এই পরিসংখ্যান তৈরি করেছেন।

যুদ্ধের প্রথম দুই বছরে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ৬৭ হাজারের বেশি মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করলেও গবেষণাটি বলছে, সরকারি হিসাব সাধারণত রক্ষণশীল হয় এবং অনেক মৃত্যু নথিভুক্ত হয় না। বিশেষ করে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে নিহত হাজারো মানুষের মৃত্যু কোনোভাবে সরকারি হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে না। হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ভেঙে পড়ায় অনেক সময় মৃত্যুর তথ্য সংগ্রহ করাও সম্ভব হয় না।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, মৃতদের প্রায় ২৭ শতাংশই ১৫ বছরের কম বয়সি শিশু এবং প্রায় ২৪ শতাংশ নারী। এছাড়া যুদ্ধের প্রভাব গাজার মানুষের গড় আয়ুতেও মারাত্মক পরিবর্তন এনেছে। গবেষকদের হিসেবে যুদ্ধের আগে নারীদের গড় আয়ু ছিল ৭৭ বছর এবং পুরুষদের ৭৪ বছর, কিন্তু ২০২৪ সালের বিশ্লেষণে তা নেমে এসেছে যথাক্রমে ৪৬ ও ৩৬ বছরে।

এই পরিসংখ্যানগুলো স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে গাজায় সংঘাত সাধারণ মানুষের জীবনকে কতটা ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে এবং মানবিক পরিস্থিতিকে চরম দুঃসহ অবস্থায় নামিয়ে এনেছে।