ইরানে বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পকে খুশি করতে চাইছে: খামেনি

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
১০ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ৬:৩৪ এএম
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ভাষণ দিচ্ছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ছবি সংগৃহীত

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ভাষণ দিচ্ছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ছবি সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশজুড়ে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এসব বিক্ষোভকারী মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করার উদ্দেশ্যেই সহিংস ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে ৮৬ বছর বয়সি খামেনি বলেন, কয়েক লক্ষ মানুষের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত ইসলামি প্রজাতন্ত্র কোনো অবস্থাতেই ‘দাঙ্গাবাজদের’ সামনে মাথা নত করবে না। তিনি স্পষ্ট করে জানান, যারা সহিংসতা ও নাশকতায় লিপ্ত হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ইরান এক মুহূর্তও দেরি করবে না।

বিক্ষোভের ১৩তম দিনে এসে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইরানের নিরাপত্তা ও বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের ‘সশস্ত্র দুষ্কৃতকারী’ ও ‘শান্তি বিঘ্নকারী’ আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। একই সঙ্গে সামরিক ও সরকারি স্থাপনায় যেকোনো হামলার জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়ার কথা জানিয়েছে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ।

এদিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো এক চিঠিতে ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পিতভাবে উসকানি দিয়ে দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে। তেহরানের দাবি, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে সহিংস ও ধ্বংসাত্মক রূপ দেওয়ার পেছনে বিদেশি প্ররোচনা রয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৮ জন বিক্ষোভকারী ও ১৪ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন। কয়েকটি সংস্থা নিহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করেছে, যেখানে শিশুও রয়েছে। এ ছাড়া দেশজুড়ে প্রায় ২ হাজার ২০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে ইন্টারনেট সেবা ব্যাপকভাবে সীমিত রাখা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, ইরান বর্তমানে গভীর সংকটে রয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ওয়াশিংটন কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিলেও সরাসরি সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা নাকচ করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক পরিসরেও উদ্বেগ বাড়ছে। ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির শীর্ষ নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিকও প্রাণহানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকার সবার রয়েছে।

এরই মধ্যে ইরানের সাবেক শাহের পুত্র রেজা পাহলভি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন। তবে ইরান সরকার এটিকে সরাসরি দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে এবং বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেছে।