ইরানে বিক্ষোভকারীদের ‘আল্লাহর শত্রু’ ঘোষণা, মৃত্যুদণ্ডের ঘোষণা সরকারের

আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
আন্তর্জাতিক ডেষ্ক
১১ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ৮:৪৭ এএম
ইরানের রাজধানী তেহরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থান। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের রাজধানী তেহরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থান। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের ‘মোহারেব’ বা ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকার। শনিবার (তারিখ অনুযায়ী) ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সংবিধানের ১৮৬ ধারার আওতায় বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতে পারে।

ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, যারা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অবস্থান নিচ্ছে, তারা সংবিধান অনুযায়ী ‘মোহারেব’ হিসেবে বিবেচিত হবে। ইরানের আইনে ‘মোহারেব’-এর শাস্তি একমাত্র মৃত্যুদণ্ড বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের সংবিধানের ১৮৬ ধারায় বলা আছে, কোনো গোষ্ঠী বা সংগঠন যদি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বা সংগঠিত অবস্থান নেয়, তাহলে সেই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত সবাইকে ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে ঘোষণা করা যেতে পারে। সরকার দাবি করছে, চলমান বিক্ষোভ এই ধারার আওতায় পড়ে।

গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ইরানে ব্যাপক আকারে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে। দিন যত গড়াচ্ছে, বিক্ষোভের তীব্রতাও তত বাড়ছে। রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহর ও প্রদেশে নিয়মিত সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

এই বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে চরম অর্থনৈতিক সংকট। দীর্ঘদিনের অবমূল্যায়নের কারণে ইরানের মুদ্রা রিয়েল বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দুর্বল মুদ্রায় পরিণত হয়েছে। ডলারের বিপরীতে রিয়েলের দর ভয়াবহভাবে পড়ে যাওয়ায় দেশে লাগামহীন মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে।

মূল্যস্ফীতির চাপে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এরই প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দেন, যা থেকেই মূলত বিক্ষোভের সূচনা হয়।

এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই বিক্ষোভ ইরানের ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে। সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে। ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং সেনাবাহিনীর পাশাপাশি ইসলামিক রিপাবলিক গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মাঠে নামানো হয়েছে। শনিবার রাতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে একাধিক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।