Something went wrong

স্ট্রোকের লক্ষণ ও উপসর্গ কী? জেনে নিন জরুরি তথ্য

আজকের প্রথা প্রতিবেদন
আজকের প্রথা প্রতিবেদন
১৩ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ১০:০২ এএম
স্ট্রোকের লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করলে সময়মতো চিকিৎসায় জীবন বাঁচানো সম্ভব। ছবি: সংগৃহীত

স্ট্রোকের লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করলে সময়মতো চিকিৎসায় জীবন বাঁচানো সম্ভব। ছবি: সংগৃহীত

স্ট্রোক বা মস্তিষ্কে রক্তসঞ্চালনে হঠাৎ সমস্যা একটি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি, যা দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা না হলে জীবননাশের কারণ হতে পারে। বাংলাদেশে প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ স্ট্রোক নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। কিন্তু উপসর্গ চিনতে দেরি হওয়া বা সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে।

চিকিৎসকদের মতে, সাধারণত মধ্যবয়সী ও বয়স্কদের মধ্যে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি থাকলেও বর্তমানে তরুণদের মধ্যেও এ রোগের প্রবণতা বাড়ছে। স্ট্রোক শুধু শারীরিক অক্ষমতাই তৈরি করে না, বরং মানসিক চাপ ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে পরিবারকেও বড় সংকটে ফেলে দিতে পারে।

স্ট্রোকের লক্ষণ অনেক সময় হঠাৎ করেই দেখা দেয়। যেমন—হাত বা পা হঠাৎ দুর্বল হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, চোখে কম দেখা বা তীব্র মাথাব্যথা। এসব উপসর্গকে অবহেলা করলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই রোগীর অবস্থা গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্ট্রোকের ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। উপসর্গ শুরু হওয়ার প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া গেলে অনেক ক্ষেত্রে স্থায়ী ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়। এ কারণেই স্ট্রোকের লক্ষণ সম্পর্কে সবার সচেতন থাকা জরুরি।

স্ট্রোকের সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে মুখ, হাত বা পায়ের এক পাশ হঠাৎ অবশ বা দুর্বল হয়ে যাওয়া। কথা বলতে বা অন্যের কথা বুঝতে সমস্যা হওয়া, এক বা দুই চোখে হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, হাঁটতে অসুবিধা, মাথা ঘোরা বা ভারসাম্য হারানোও গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা দেখা দিলেও তা স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে।

জরুরি পরিস্থিতিতে স্ট্রোক শনাক্তে চিকিৎসাবিজ্ঞানে F.A.S.T. পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে মুখে হাসির সময় এক পাশ বেঁকে যাওয়া, দুই হাত তুলতে গিয়ে এক হাত নামতে থাকা, কথা অস্পষ্ট হওয়া—এসব লক্ষণ দ্রুত বোঝা যায়। এসবের যেকোনো একটি দেখা দিলেই সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলেন, এমন অবস্থায় নিজে গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা না করে অ্যাম্বুলেন্স ডাকা সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ পথে জরুরি চিকিৎসা শুরু করা গেলে রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

কিছু ক্ষেত্রে স্ট্রোকের উপসর্গ অল্প সময়ের জন্য দেখা দিয়ে মিলিয়ে যেতে পারে। একে ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক বা ‘মিনি স্ট্রোক’ বলা হয়। যদিও এটি সাময়িক, তবে ভবিষ্যতে বড় স্ট্রোকের শক্ত সতর্কবার্তা হিসেবে একে দেখা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ট্রোক সময়ের সঙ্গে একটি সরাসরি যুদ্ধ। শরীরের হঠাৎ কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন বা উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসা নেওয়াই হতে পারে জীবন বাঁচানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

Advertisement