গাজার পক্ষে প্রতিবাদে হলিউড অভিনেত্রী সুসান সারানডন ‘নিষিদ্ধ


সুসান সারানডন গাজার পক্ষে প্রতিবাদ করার পর আন্তর্জাতিক সিনেমায় কাজ করছেন। ছবিঃ সংগৃহীত
গাজার যুদ্ধবিরতি ও ফিলিস্তিনের পক্ষে প্রতিবাদ জানানোর কারণে হলিউডের বিশিষ্ট অভিনেত্রী সুসান সারানডন বড় প্রজেক্টে কাজ করতে বাধ্য হয়েছিলেন না। ৭৯ বছর বয়সি এই অভিনেত্রী সম্প্রতি জানিয়েছেন, তার এজেন্সি রাজনৈতিক কারণে তাকে বরখাস্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পে তার ক্যারিয়ারে এ ঘটনায় বড় ধাক্কা লেগেছে। তবে ইউরোপে, বিশেষ করে ইতালি ও ইংল্যান্ডে নতুন এজেন্টের মাধ্যমে তিনি আবারও কাজের সুযোগ পেয়েছেন।
সুসান সারানডন বলেন, “আমার এজেন্সি আমাকে বরখাস্ত করেছে, বিশেষ করে গাজার পরিস্থিতি নিয়ে আমার প্রতিবাদী মিছিল ও বক্তব্যের কারণে। এরপর থেকে হলিউডের বড় প্রজেক্টে কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।” তিনি বলেন, ইউরোপে তিনি স্বাধীন সিনেমা ও থিয়েটারে অভিনয় করে যাচ্ছেন। কিছু আন্তর্জাতিক পরিচালককে তাকে প্রজেক্টে নিতে নিষেধ করা হয়েছিল, কিন্তু তারা তা মানেননি।
২০১৩ সালে নয়, ২০২৩ সালে ফিলিস্তিনের পক্ষে আয়োজিত সমাবেশে অংশ নেওয়ার পর তার এজেন্সি তার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে দেয়। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এরপর থেকে সারানডন ইউরোপের স্বাধীন চলচ্চিত্র প্রযোজক ও ছোট প্রজেক্টে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
অভিনেত্রী স্পষ্ট করেছেন, শিল্পী হিসেবে সামাজিক বা রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়ার কারণে যে চাপ এসেছে, তা শিল্পের স্বাধীনতা ও মুক্তচিন্তার সীমাবদ্ধতার প্রমাণ। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বড় প্রযোজনা সংস্থা বা এজেন্সি রাজনৈতিক কারণে শিল্পীকে সরিয়ে দিতে পারে, কিন্তু আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে কাজের সুযোগ রয়েছে, যা নতুন সম্ভাবনার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
সুসান সারানডন আরও বলেন, স্পেনে সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার শক্তিশালী উদাহরণ দেখা যায়। যেখানে দমন ও সেন্সরশিপ আছে, সেখানে প্রেসিডেন্ট এবং সুপরিচিত অভিনেতারা, যেমন হাভিয়ের বারডেম, দৃঢ় সমর্থন দেখাচ্ছেন। এটি যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে কাজ করে।
উপসংহার হিসেবে বলা যায়, সুসান সারানডনের অভিজ্ঞতা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পে স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অভিমত প্রকাশের গুরুত্ব এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনা তৈরির একটি উদাহরণ।









