জকসু নির্বাচন ২০২৫: ভিপি-জিএস-এজিএস পদে এগিয়ে ছাত্রশিবির

আজকের প্রথা প্রতিবেদন
আজকের প্রথা প্রতিবেদন
৭ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ৩:১৪ এএম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জকসু নির্বাচনের ভোট গণনা কার্যক্রম চলছে। ছবি সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জকসু নির্বাচনের ভোট গণনা কার্যক্রম চলছে। ছবি সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচন-২০২৫–এ প্রাথমিক ফলাফলে চারটি কেন্দ্রে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল এগিয়ে রয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৭টার দিকে জকসু নির্বাচন কমিশন এসব কেন্দ্রের ভোট গণনার ফল প্রকাশ করে। এতে ভিপি, জিএস ও এজিএস—তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদেই শিবির সমর্থিত প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন।

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘোষিত চার কেন্দ্রের মোট ফলাফলে ভিপি পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত রিয়াজুল ইসলাম ৪২৭ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের একেএম রাকিব পেয়েছেন ৩৯৪ ভোট। জিএস পদে শিবির সমর্থিত আব্দুল আলিম আরিফ পেয়েছেন ৩৮৫ ভোট, যেখানে ছাত্রদলের খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ২০৫ ভোট। এজিএস পদে শিবির সমর্থিত মাসুদ রানা এগিয়ে আছেন ৪০৫ ভোট পেয়ে, আর ছাত্রদলের বিএম আতিকুর রহমান তানজিল পেয়েছেন ৩২১ ভোট।

বিভাগভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে ভিপি পদে রিয়াজুল ইসলাম পেয়েছেন ১০০ ভোট এবং একেএম রাকিব পেয়েছেন ৯১ ভোট। একই বিভাগে জিএস পদে আব্দুল আলিম আরিফ পেয়েছেন ৯০ ভোট, খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ৪৫ ভোট। এজিএস পদে মাসুদ রানা পেয়েছেন ৯৮ ভোট এবং তানজিল পেয়েছেন ৪৫ ভোট।

নৃবিজ্ঞান বিভাগে ভিপি পদে রিয়াজুল ইসলাম পেয়েছেন ১২৮ ভোট, একেএম রাকিব পেয়েছেন ১১৮ ভোট। জিএস পদে আব্দুল আলিম আরিফ ১২৩ ভোট পেলেও এজিএস পদে ছাত্রদলের প্রার্থী বিএম আতিকুর রহমান তানজিল ১২৬ ভোট পেয়ে শিবির সমর্থিত মাসুদ রানাকে (১০২ ভোট) ছাড়িয়ে যান। এ বিভাগে ফলাফল নিয়ে বিশেষভাবে নজরদারি করা হয় বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

লোক প্রশাসন বিভাগে ভিপি পদে ছাত্রদলের একেএম রাকিব ১৩২ ভোট পেয়ে এগিয়ে থাকলেও শিবির সমর্থিত রিয়াজুল ইসলাম পেয়েছেন ১২২ ভোট। তবে জিএস ও এজিএস—দুই পদেই শিবির সমর্থিত প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। ফার্মেসি বিভাগে ভিপি, জিএস ও এজিএস—তিনটি পদেই ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থীরা স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে আছেন বলে জানিয়েছে কমিশন।

এদিকে ভোট গণনায় কিছুটা বিলম্বের কারণও জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনার অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাত ৯টা ২০ মিনিটে ভোট গণনার মেশিনে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে সাময়িকভাবে গণনা বন্ধ রাখা হয়। পরে ম্যানুয়াল গণনা ও ওএমআর মেশিনের ফল মিলিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যে মেশিনের ফল ম্যানুয়াল গণনার সঙ্গে মিলবে, সেটির মাধ্যমেই পরবর্তী কেন্দ্রগুলোর ভোট গণনা করা হবে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২৭৮টি ভোট দিয়ে নতুন করে গণনা শুরু হয়।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ৩৯টি কেন্দ্রের ১৭৮টি বুথে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা যায় এবং তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক হিসাবে, এবারের নির্বাচনে ভোট পড়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ। চূড়ান্ত ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ভোট গণনা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন।