বিশ্ববাজারের প্রভাবে দেশে ডিজেল–পেট্রলসহ সব জ্বালানি তেলের দাম কমল


দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের নতুন মূল্যহার কার্যকর হওয়ায় ভোক্তাদের মধ্যে স্বস্তি। ছবি সংগৃহীত
বিশ্ববাজারের মূল্যপরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেন—সব ক্ষেত্রেই লিটারে ২ টাকা করে মূল্য হ্রাস করা হয়েছে। শনিবার রাতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে, যা রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হচ্ছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিজেলের দাম লিটারে ২ টাকা কমিয়ে ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে কেরোসিনের দাম লিটারে ১১২ টাকা, পেট্রলের দাম ১১৬ টাকা এবং অকটেনের দাম লিটারে ১২০ টাকায় পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার প্রভাব দেশীয় বাজারে সমন্বয় করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, সরকার নিয়মিতভাবে বিশ্ববাজার পর্যবেক্ষণ করছে এবং মূল্য পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ভোক্তা পর্যায়ে যৌক্তিক সমন্বয় করা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “বিশ্ববাজারে দাম কমলে তার সুফল যেন ভোক্তারা পান, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।”
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, দেশে বছরে মোট জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ৭৫ লাখ টন। এর মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশই ডিজেল, যা মূলত কৃষি সেচ, পরিবহন খাত ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। অবশিষ্ট চাহিদা পূরণ হয় পেট্রল, অকটেন, কেরোসিন, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলের মাধ্যমে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম কমলে পরিবহন খরচে স্বস্তি আসতে পারে, যার প্রভাব ধীরে ধীরে নিত্যপণ্যের বাজারেও পড়তে পারে। এতে সামগ্রিকভাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন এই মূল্যহার কার্যকর হওয়ার ফলে ভোক্তা পর্যায়ে স্বল্পমেয়াদে কিছুটা স্বস্তি মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও বিশ্ববাজারের ওঠানামার সঙ্গে সমন্বয় রেখে জ্বালানি তেলের দাম পুনর্মূল্যায়ন করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।




