Something went wrong

এলপি গ্যাসের তীব্র সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি

অর্থনীতি ডেস্ক
অর্থনীতি ডেস্ক
৪ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ৪:৪২ এএম
এলপি গ্যাস সংকটের কারণে বাড়তি দামে সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ছবি: সংগৃহীত

এলপি গ্যাস সংকটের কারণে বাড়তি দামে সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ছবি: সংগৃহীত

শীত মৌসুমে বাসাবাড়িতে গ্যাসের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পাইপলাইনের গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। ফলে বাধ্য হয়ে অনেক পরিবার এলপিজির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। কিন্তু বাজারে এলপিজির সরবরাহ কম থাকায় সাধারণ মানুষ পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান জানান, আগে এক ফোন কলে এলপিজি পাওয়া গেলেও এখন ২–৩ দিন অপেক্ষা করেও সিলিন্ডার মিলছে না। তাও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রায় ৭০০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনেও একই চিত্র। তেজগাঁও এলাকার সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাসের সংকট আরও তীব্র হয়েছে। সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ফারহান নুর বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাসের সংকট চলছে। জ্বালানি উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি।

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানায়, পাইপলাইন মেরামতের কারণে ঢাকার কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল। তাছাড়া শীতকালে চাহিদা দৈনিক প্রায় ১০ কোটি ঘনফুট বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

এলপিজি সংকটের পেছনে আমদানিও একটি বড় কারণ। এলপিজি অপারেটরস অব বাংলাদেশ (লোয়াব)-এর সভাপতি আমিরুল হক জানান, মাসিক চাহিদা যেখানে ১ লাখ ২০–৩০ হাজার টন, সেখানে বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ৯০ হাজার টন। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে বেশ কয়েকটি এলপিজিবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় আমদানি ব্যাহত হচ্ছে।

ডিলাররাও সংকটের কথা স্বীকার করেছেন। তেজগাঁও এলাকার এলপিজি ডিলার আবু তাহের জানান, আগে দৈনিক ২০০টি সিলিন্ডার বিক্রি হলেও এখন সপ্তাহে ২০০টি জোগাড় করাই কঠিন। প্ল্যান্ট থেকে সিলিন্ডার আনতে সময় ও খরচ বেড়ে যাওয়ায় দামও বাড়ছে।

এলপিজি ও পাইপলাইনের গ্যাস—দুটোরই সংকটে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। দ্রুত আমদানি জটিলতা নিরসন এবং বাজার তদারকি জোরদার না হলে সামনে দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Advertisement
Advertisement