এনবিআরের অভিযানে শেখ হাসিনার লকারে মিলল ৮৩২ ভরি স্বর্ণ

অর্থনীতি ডেস্ক
অর্থনীতি ডেস্ক
২৬ নভেম্বর, ২০২৫ এ ৩:২১ এএম
জব্দ করা লকার খুলে স্বর্ণ উদ্ধার করছে তদন্তকারী সংস্থার কর্মকর্তারা। ছবি: সংগৃহীত

জব্দ করা লকার খুলে স্বর্ণ উদ্ধার করছে তদন্তকারী সংস্থার কর্মকর্তারা। ছবি: সংগৃহীত

অর্থনৈতিক অপরাধ দমন সংস্থা ও আদালত–সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আদালতের অনুমতি নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি যৌথ দল সম্প্রতি জব্দ করা লকার দুটি খুলে। লকারগুলো থেকে মোট ৮৩২.৫ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। কর ফাঁকি ও দুর্নীতি তদন্তের অংশ হিসেবে এসব লকার পূর্বে জব্দ করেছিল এনবিআরের গোয়েন্দা ইউনিট সিআইসি।

চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান শাখায় অবস্থিত শেখ হাসিনার দুটি লকার—৭৫৩ নম্বর (চাবি নং ২০০) এবং ৭৫১ নম্বর (চাবি নং ১৯৬)—জব্দ করে সিআইসি। এর আগে, ১০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মতিঝিলের পূবালী ব্যাংক সেনা কল্যাণ ভবন শাখা থেকে ১২৮ নম্বর লকারও জব্দ করা হয়। পরবর্তী সময়ে এই সব লকার আদালতের নির্দেশে তদন্তকারী সংস্থার হাতে হস্তান্তর করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ গত ১৭ নভেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। একই রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির সকল স্থাবর–অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্যও নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

এনবিআর জানায়, ট্রাইব্যুনালের ওই আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে জব্দ করা লকারগুলো খুলে সম্পত্তি ক্রোক ও বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা বলছে, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সম্পদের উৎস ও বৈধতা যাচাই করেও সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গত ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের কর ফাঁকি ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শুরু করে। সেই তদন্তের অংশ হিসেবেই দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে শেখ হাসিনার নামে থাকা লকারগুলো জব্দ করে সিআইসি এবং সেগুলো খুলে এখন সম্পদ জব্দের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।