Something went wrong

একক ভ্যাট হারের সুপারিশ জাতীয় কর টাস্কফোর্সের

অর্থনীতি ডেস্ক
অর্থনীতি ডেস্ক
২৮ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ৩:৪২ এএম
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে কর কাঠামো সংস্কার প্রতিবেদন হস্তান্তর করছে জাতীয় টাস্কফোর্স। ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে কর কাঠামো সংস্কার প্রতিবেদন হস্তান্তর করছে জাতীয় টাস্কফোর্স। ছবি: সংগৃহীত

ভ্যাট ব্যবস্থায় বিদ্যমান বহু স্তরের পরিবর্তে একক হার নির্ধারণের সুপারিশ করেছে জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত টাস্কফোর্স। মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়ে এই সুপারিশ তুলে ধরে টাস্কফোর্সটি।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তারের নেতৃত্বাধীন জাতীয় টাস্কফোর্স প্রতিবেদনটি প্রধান উপদেষ্টার হাতে হস্তান্তর করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, অর্থ বিভাগের সচিব ড. খায়রুজ্জামান মজুমদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারক এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব আবদুর রহমান খান।

প্রতিবেদন গ্রহণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে সময় সীমিত হলেও এসব নীতিগত সুপারিশ বাস্তবায়নের পথচলা শুরু করতে চায় সরকার। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়িত হলে রাজস্ব আদায়ের খাত ও পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা আসবে এবং এটি দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বড় নীতিগত পরিবর্তন আনবে।

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই প্রতিবেদন রাজস্ব সংস্কারে একটি কার্যকর গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর পাশাপাশি এ খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

টাস্কফোর্সের প্রধান ড. জায়েদী সাত্তার বলেন, গত এক দশকে দেশের রাজস্ব আদায়ের পদ্ধতি অপ্রয়োজনীয়ভাবে জটিল হয়ে উঠেছে। এই কাঠামো সংস্কার ছাড়া রাজস্ব আহরণের পরিসর বাড়ানো কঠিন। দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা গেলে অর্থনীতিতে এর সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পটভূমি ও সুপারিশ

প্রসঙ্গত, কর-জিডিপি অনুপাত গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে গত বছরের ৬ অক্টোবর ১১ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় কর টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। কমিটিকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেওয়া হলেও তারা ২৭ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের কর ব্যবস্থাকে অদক্ষ, জটিল এবং পরোক্ষ করনির্ভর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে মোট ৫৫টি নীতিগত সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে সুপারিশ দেওয়া হয়। অগ্রাধিকারভিত্তিক সাতটি গুরুত্বপূর্ণ নীতির কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

ভবিষ্যৎ রূপরেখা

টাস্কফোর্স ২০৩০ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের অনুপাত বর্তমান ৩০:৭০ থেকে ৫০:৫০-এ আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে ভ্যাট ব্যবস্থায় একক হার চালুর পাশাপাশি ডিজিটালাইজেশন, অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ, ঝুঁকিভিত্তিক অডিট, সহজ কর কাঠামো এবং শুল্ক ব্যবস্থার আধুনিকায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। পণ্য খালাসে বন্দরের পরিবর্তে পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট চালুর কথাও বলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় কর টাস্কফোর্সের এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের রাজস্ব ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার সম্ভব হবে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব আয় বাড়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সুশাসন জোরদার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisement
Advertisement