৮ বছরের সর্বোচ্চ পতনের পর ঘুরে দাঁড়াচ্ছে মার্কিন ডলার

অর্থনীতি ডেস্ক
অর্থনীতি ডেস্ক
৫ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ৩:২৪ এএম
বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারে পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিচ্ছে মার্কিন ডলার ও ডলার ইনডেক্স। ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারে পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিচ্ছে মার্কিন ডলার ও ডলার ইনডেক্স। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ আট বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বার্ষিক দরপতনের পর নতুন বছরের শুরুতে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে মার্কিন ডলার। বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারে শুক্রবার (২০২৬ সালের শুরুতে) বেশিরভাগ প্রধান মুদ্রার বিপরীতে শক্তিশালী অবস্থানে ফিরেছে ডলার। বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্য ও ফেডারেল রিজার্ভের সুদনীতি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

গত বছর ডলার ৯ শতাংশের বেশি দর হারায়, যা ২০১৭ সালের পর সবচেয়ে বড় বার্ষিক পতন। বিশ্লেষকদের মতে, অন্যান্য অর্থনীতির সঙ্গে সুদের হারের ব্যবধান কমে আসা, মার্কিন আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ, বৈশ্বিক বাণিজ্য যুদ্ধ এবং ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতা নিয়ে সংশয়—এই সবকিছু মিলেই ডলারের ওপর চাপ তৈরি করেছিল। এই ঝুঁকিগুলো চলতি বছরেও পুরোপুরি কাটেনি।

আগামী সপ্তাহে প্রকাশিত হতে যাওয়া একাধিক অর্থনৈতিক তথ্যের দিকে তাকিয়ে আছেন বিনিয়োগকারীরা। বিশেষ করে শুক্রবারের পেরোল রিপোর্টকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই প্রতিবেদন থেকে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও কমাবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা মিলতে পারে। বাজারে বর্তমানে এ বছর দুই দফা সুদহ্রাসের প্রত্যাশা থাকলেও, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভক্ত বোর্ড একবার কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।

মোনেক্স ইউএসএর ওয়াশিংটনভিত্তিক ট্রেডিং পরিচালক জুয়ান পেরেজ বলেন, “এটা আসলে অনেক বিষয় একসঙ্গে মূল্যায়নের সময়। ফেডের পরবর্তী বৈঠক মাসের শেষ দিকে না হলেও, এখনো কোনো বিষয়ে পূর্ণ ঐকমত্য তৈরি হয়নি।” তার মতে, সাম্প্রতিক সরকারি অচলাবস্থা অর্থনৈতিক তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণকে আরও জটিল করে তুলেছে।

লেনদেনের দিক থেকে শুক্রবার বাজার ছিল তুলনামূলকভাবে শান্ত। জাপান ও চীনের বাজার বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারে লেনদেনের পরিমাণ কম ছিল। এদিন ডলার ইনডেক্স ০.২৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৮.৪৮ পয়েন্টে, যা প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের শক্তি নির্দেশ করে। একই সময়ে ইউরোর মান ০.২৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১.১৭১৬ ডলারে।

ইউরো জোনের অর্থনীতিতেও চাপের ইঙ্গিত মিলছে। এক জরিপে দেখা গেছে, গত ডিসেম্বরে অঞ্চলটির উৎপাদন খাতের কার্যক্রম নয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। যদিও গত বছর ইউরোর মান ১৩ শতাংশের বেশি বেড়েছিল, যা ২০১৭ সালের পর সর্বোচ্চ বার্ষিক উত্থান।

স্টার্লিংয়ের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। ২০২৫ সালে ৭.৭ শতাংশ বৃদ্ধির পর পাউন্ডের মান শুক্রবার ০.১৮ শতাংশ কমে ১.৩৪৪৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই প্রবৃদ্ধিও ছিল ২০১৭ সালের পর সবচেয়ে বড় বার্ষিক বৃদ্ধি।

এদিকে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের দিকে। চলতি মাসেই তিনি ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে নিজের পছন্দের নাম ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন। বর্তমান চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের মেয়াদ শেষ হচ্ছে মে মাসে। বাজারের বড় অংশের ধারণা, ট্রাম্পের মনোনীত ব্যক্তি সুদের হার কমানোর পক্ষে অবস্থান নিতে পারেন।

গোল্ডম্যান স্যাকসের কৌশলবিদরা এক নোটে জানিয়েছেন, “মধ্যমেয়াদে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ ২০২৬ সাল পর্যন্ত চলতে পারে। ফেডের নেতৃত্বে সম্ভাব্য পরিবর্তন আমাদের সুদহারের পূর্বাভাসে নিম্নমুখী ঝুঁকি তৈরি করছে।”

এশীয় মুদ্রাবাজারেও ডলারের প্রভাব স্পষ্ট। জাপানি ইয়েন ০.১৬ শতাংশ দুর্বল হয়ে ডলারপ্রতি ১৫৬.৯১-এ দাঁড়িয়েছে। গত নভেম্বর ইয়েন ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন ১৫৭.৮৯-এ নেমে গিয়েছিল, যা জাপানের নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। যদিও ব্যাংক অব জাপান গত বছর দুইবার সুদের হার বাড়িয়েছে, তাতে ইয়েনের মান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি।

এলএসইজি-এর তথ্য অনুযায়ী, আগামী জুলাইয়ের আগে ব্যাংক অব জাপানের সুদের হার পুনরায় বাড়ার সম্ভাবনা ৫০ শতাংশের নিচে রয়েছে।

অন্যদিকে, ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। বিটকয়েনের দাম ১.৬৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৯ হাজার ৭৪১.৬১ ডলারে।