Something went wrong

বিশ্ব বাজারে কমছে তেলের দাম, জরুরি বৈঠকে ওপেক প্লাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ এ ১০:০১ এএম
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরব, রাশিয়া ও ওপেক প্লাস জোটের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশ রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হচ্ছে। এই বৈঠকে অপরিশোধিত তেল উৎপাদন বাড়ানো হবে নাকি বর্তমান মাত্রা বজায় রাখা হবে, তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে যাওয়ায় এই বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ভলান্টারি এইট বা ভি৮ নামে পরিচিত আটটি তেল উৎপাদনকারী দেশের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্ব বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের আশঙ্কায় তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬৫-৭০ ডলারে নেমে এসেছে। চলতি বছরে তেলের দাম ইতোমধ্যে ১২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে উৎপাদনকারী দেশগুলোর অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হচ্ছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওপেক ও তার মিত্র দেশগুলো প্রতিদিন প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেল উৎপাদন কমিয়েছিল। তবে সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, ইউএই, কুয়েত, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া এবং ওমান—এই আট দেশ, যারা ভি৮ নামে পরিচিত, তারা গত এপ্রিল মাস থেকে বাজারের অংশীদারিত্ব পুনরুদ্ধারের জন্য তেল উৎপাদন বাড়ানো শুরু করে। তবে এটি বাজারে কী প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বছরের শেষ প্রান্তিকে সাধারণত তেলের চাহিদা কম থাকে। তাই উৎপাদন না বাড়ানো হলেও বাজারে সরবরাহ উদ্বৃত্ত থাকবে, যা দামের ওপর চাপ তৈরি করবে। বাজারে এমনও গুঞ্জন উঠেছে যে, অক্টোবরের জন্য নতুন করে তেলের কোটা সমন্বয় করা হতে পারে। এই সমন্বয় কীভাবে করা হয় তার ওপর বিশ্ব অর্থনীতির অনেক কিছু নির্ভর করছে।

ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও তেলের বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্ক বর্তমানে অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইউরোপীয় দেশগুলোকে রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করতে বলেছেন। অন্যদিকে, রাশিয়ার তেল আমদানির কারণে ভারতের ওপর শুল্ক বাড়ানোর মতো পদক্ষেপও দেখা গেছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন জটিলতা সৃষ্টি করছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাশিয়ার রপ্তানি সীমিত হলে ওপেক প্লাসের জন্য বাজারে সুযোগ বাড়বে। তবে ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য রাশিয়ার উচ্চ তেলের দাম বজায় রাখা প্রয়োজন, তাই তাদের পক্ষে বাড়তি কোটার সুযোগ কাজে লাগানো কঠিন হবে। এই পরিস্থিতি তেলের দামের ভবিষ্যত গতিপথ নির্ধারণে এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

Advertisement
Advertisement