পে স্কেল নির্ধারণে নতুন কমিশন গঠনের আহ্বান ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের

অর্থনীতি ডেস্ক
অর্থনীতি ডেস্ক
১ এপ্রিল, ২০২৬ এ ৩:৪৬ এএম
সিপিডি কার্যালয়ে প্রাক্-বাজেট ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখছেন ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। ছবি: সংগৃহীত

সিপিডি কার্যালয়ে প্রাক্-বাজেট ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখছেন ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। ছবি: সংগৃহীত

নতুন পে স্কেল নির্ধারণে বর্তমান সরকারের নিজস্ব কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘বাজেট ঘিরে নাগরিক ভাবনা ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্রাক্-বাজেট মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এ মত দেন। তার মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবিত পে কমিশনের রিপোর্ট সরাসরি গ্রহণ না করে নতুনভাবে মূল্যায়ন করা উচিত।

ব্রিফিংয়ে ড. দেবপ্রিয় বলেন, পূর্ববর্তী সরকার মেয়াদের শেষ সময়ে পে স্কেল সংক্রান্ত যে উদ্যোগ নিয়েছিল, তার বাস্তবায়নের দায় বর্তমান সরকারের ওপর বর্তেছে। এতে একটি ‘প্রলম্বিত দায়’ তৈরি হয়েছে, যা নতুন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি মনে করেন, নতুন সরকারকে নিজস্বভাবে উদ্যোগ নিয়ে একটি কমিশন গঠন করতে হবে, যাতে পূর্ববর্তী পে কমিশনের সুপারিশগুলোকে একটি উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা যায়। তবে কোনো ধরনের প্রশ্ন ছাড়াই সেই রিপোর্ট গ্রহণ করা যুক্তিসঙ্গত হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাজস্ব আদায়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শক্তিশালী রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা দূর করা গেলে রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব। তার মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের রাজনৈতিক সক্ষমতা সীমিত থাকায় এ ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। তবে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের জন্য প্রথম বছরই এই ধরনের সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।

পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর বিষয়ে জোর দিয়ে ড. দেবপ্রিয় বলেন, দেশের ভেতরে ও বাইরে জব্দ করা সম্পদ দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ায় বিক্রি করে অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা জরুরি। তিনি বলেন, “চুরি করা টাকা ফেরত আনতে হবে”—এটি অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সার্বিকভাবে, নতুন পে স্কেল, রাজস্ব বৃদ্ধি এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর বিষয়ে তার এই সুপারিশগুলো আসন্ন বাজেট প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।