ডাউন পেমেন্ট নীতি সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক, ব্যবসায়ীদের স্বস্তি

অর্থনীতি ডেস্ক
অর্থনীতি ডেস্ক
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ৩:৫৯ এএম
খেলাপি ঋণ নবায়নে ডাউন পেমেন্ট নীতি সহজ করার নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

খেলাপি ঋণ নবায়নে ডাউন পেমেন্ট নীতি সহজ করার নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

খেলাপি ঋণ নবায়ন ও পুনর্গঠনে বড় ধরনের নীতিগত ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে নির্ধারিত ডাউন পেমেন্টের ৫০ শতাংশ পরিশোধ করেই ঋণ নবায়নের সুযোগ পাওয়া যাবে। রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের সব তফশিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়েছে। নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে বলা হয়েছে, তফশিলি ব্যাংক ও ঋণগ্রহীতা স্টেকহোল্ডারদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঋণ পুনঃতফশিল ও এক্সিট সুবিধা সহজ করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিআরপিডি সার্কুলারের আওতায় পুনঃতফশিল বা এক্সিট সুবিধার ক্ষেত্রে গ্রাহকের আবেদনের ভিত্তিতে নির্ধারিত ডাউন পেমেন্টের অর্ধেক তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা যাবে। অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ ঋণ নবায়ন কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধের সুযোগ থাকবে।

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর খেলাপি ঋণ নবায়নে এটাই প্রথম বিশেষ ছাড়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটি কিছুটা স্বস্তির সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে অচল ঋণ ব্যবস্থাপনায় গতি আসতে পারে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যেসব ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে নীতি সহায়তা দেওয়া হলেও যৌক্তিক কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি, সেখানে সংশ্লিষ্ট অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান পূর্ব নির্ধারিত সময়সীমার বাইরে অতিরিক্ত তিন মাস সময় বাড়াতে পারবে। এই সময়সীমা শেষে গ্রাহক সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

সুদ মওকুফ সংক্রান্ত কোনো বিষয় বিবেচনায় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বলেও জানানো হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাংকগুলো নমনীয় অবস্থান নিতে পারবে।

ব্যাংক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, খেলাপি ঋণ পুনর্গঠন সহজ হওয়ায় ব্যবসায়িক কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এই সুবিধা যেন অপব্যবহার না হয় এবং ঋণ শৃঙ্খলা বজায় থাকে, তা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।