শ্বশুরবাড়ির অভিযোগে চাঞ্চল্য

ভোলায় কিশোরীর রহস্যজনক মৃত্যু

ভোলা ( জেলা ) প্রতিনিধি
ভোলা ( জেলা ) প্রতিনিধি
২৮ আগস্ট, ২০২৫ এ ৫:৪৭ এএম
ভোলায় কিশোরী মিমের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বাড়ির উঠানে ভিড় করেন স্থানীয় গ্রামবাসী।  ছবি : সংগৃহীত

ভোলায় কিশোরী মিমের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বাড়ির উঠানে ভিড় করেন স্থানীয় গ্রামবাসী। ছবি : সংগৃহীত

ভোলার সদর উপজেলায় মারিয়া মনির মিম (১৬) নামে এক কিশোরীর মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শ্বশুরবাড়ি থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হঠাৎ তার মরদেহ নানা বাড়িতে পাঠানো হলে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আলোড়ন ছড়িয়ে পড়ে। পরিবার অভিযোগ করছে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

বুধবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের শাহামাদার গ্রামের মীর বেলায়েত মেম্বারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। মৃত মিম ছিলেন স্থানীয় কাচিয়া শাহামাদার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী। তিনি ব্যবসায়ী মনির হোসেন ও শিক্ষিকা বিবি তানিয়ার বড় মেয়ে। মিমের স্বামী রাকিব একই গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে রমজান মাসে মিম ও রাকিব পালিয়ে গিয়ে ঢাকায় বিয়ে করেন। কয়েক মাস পর তারা গ্রামে ফিরে এসে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন। তবে বুধবার দুপুরে মিমের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে হঠাৎ তার নানা বাড়ির উঠানে পৌঁছালে পরিবার হতবাক হয়ে যায়। খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ ভিড় জমান।

মিমের বাবা মনির হোসেন অভিযোগ করেন, ‘আমার মেয়েকে জোরপূর্বক অপহরণ করে বিয়ে করানো হয়। পরে তাকে নির্যাতন করে হত্যা করে মরদেহ বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।’

অন্যদিকে, রাকিবের মামা ফিরোজ দাবি করেন, মিম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে টয়লেটে পড়ে যান। প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা দেওয়া হয়, পরে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তবে ভয়ে মরদেহ সরাসরি মিমের নানা বাড়িতে পাঠানো হয়, যা তাদের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।

ভোলা সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক রিয়াজুল হাসান বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে সুরতহাল রিপোর্ট সম্পন্ন করে মরদেহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ এলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’