মধুপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী আজাদের প্রচারণার গাড়ি থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার, আটক ৩

মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
২৯ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ৯:৩৯ এএম
মধুপুরের নাগবাড়ী মোড়ে সেনাবাহিনীর চেকপোস্টে তল্লাশির সময় প্রচারণার গাড়ি থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

মধুপুরের নাগবাড়ী মোড়ে সেনাবাহিনীর চেকপোস্টে তল্লাশির সময় প্রচারণার গাড়ি থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর–ধনবাড়ী) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল আসাদুল ইসলাম আজাদের নির্বাচনী প্রচারণার গাড়িবহরের একটি গাড়িতে অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

বুধবার (রাত ১১টা) মধুপুর পৌর এলাকার নাগবাড়ী মোড়ে সেনাবাহিনীর একটি চেকপোস্টে তল্লাশির সময় প্রার্থীর বহরের একটি গাড়ি থেকে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে চারটি চাইনিজ কুড়াল, পাঁচটি হকিস্টিক এবং একটি আধুনিক রড।

আটক ব্যক্তিরা হলেন মধুপুর উপজেলার ফাজিলপুর গ্রামের মৃত আমির আলীর ছেলে আল বোখারী, একই গ্রামের জুলহাস আলীর ছেলে নাইম এবং ইদ্রিস আলীর ছেলে রিপন হোসেন।

সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, স্বতন্ত্র প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মো. আসাদুল ইসলাম আজাদ বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। চারটি গাড়ির বহরের প্রথম গাড়িতে ছিলেন তিনি। নাগবাড়ী এলাকায় সেনাবাহিনীর চেকপোস্টে তল্লাশির সময় বহরের দ্বিতীয় গাড়িতে অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্রগুলো জব্দ করা হয়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে আজাদের সমর্থকরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। দীর্ঘ সময় পর জব্দ অস্ত্র ও আটক তিনজনকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মধুপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নঈম উদ্দিন জানান, আটক তিনজন ও উদ্ধার করা দেশীয় অস্ত্র পুলিশ হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সহকারী পুলিশ সুপার (মধুপুর সার্কেল) আরিফুল ইসলাম জানান, তিনজনকে ৫৪ ধারায় আটক দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের বয়স বিবেচনায় শিশু আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে আজাদের পক্ষ থেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি জানান, প্রতিপক্ষের আক্রমণের আশঙ্কা থাকায় আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে এসব অস্ত্র রাখা হয়ে থাকতে পারে।

ঘটনার পর গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে স্বতন্ত্র প্রার্থী কর্নেল আজাদ পুরো ঘটনাকে তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে এবং এসব গুজবে কান না দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নিরাপত্তার বিষয়টি এখন সবার জন্যই উদ্বেগজনক।

এ ঘটনায় প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকার প্রশংসা করে সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন কর্নেল আজাদ।