বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলা অনিশ্চিত, সম্ভাবনা শূন্যের কোঠায়

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক
৭ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ৩:৩৫ এএম
বিশ্বকাপ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-এর মধ্যে চলমান টানাপোড়েনের কারণে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলার সম্ভাবনা এখন প্রায় শূন্যের কোঠায় বলে জানিয়েছে বিসিবি সূত্র। মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) রাতে আইসিসির সঙ্গে বৈঠক হলেও সেখান থেকে কোনো ইতিবাচক বার্তা মেলেনি।

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক ভারত ও শ্রীলংকা। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ দল ভারতে গিয়ে খেলতে অনিচ্ছুক—এই অবস্থানে অনড় রয়েছে বিসিবি। সেই প্রেক্ষিতে রোববার আইসিসিকে চিঠি দিয়ে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলংকায় আয়োজনের প্রস্তাব দেয় বিসিবি। তবে আইসিসি শেষ মুহূর্তে ফিকশ্চার পরিবর্তনে আগ্রহী নয় বলে জানা গেছে, যা বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও দুর্বল করে তুলেছে।

বিসিবির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আইসিসি ফিকশ্চার পুনর্বিন্যাসে গেলে বড় ধরনের সাংগঠনিক জটিলতায় পড়তে পারে। সে কারণেই বাংলাদেশকে বিশেষ ছাড় দিতে চায় না সংস্থাটি। এমন পরিস্থিতিতে বিসিবির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে উঠে এসেছে, বর্তমান অবস্থান বজায় থাকলে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলা কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

এই সংকটের পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাংলাদেশের তারকা পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে হঠাৎ বাদ দেওয়ার ঘটনা। বিসিবির দৃষ্টিতে এটি শুধু একজন খেলোয়াড়ের বিষয় নয়, বরং বাংলাদেশের ক্রিকেট মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত। বিষয়টিকে ‘অপমানজনক ও একতরফা আচরণ’ হিসেবে উল্লেখ করে বিসিবি আইসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ দল ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে আগ্রহী নয়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে আইসিসি সোমবার মুম্বাই ও দুবাইয়ে একাধিক অভ্যন্তরীণ বৈঠক করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, বিসিবি ও বিসিসিআইয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে আইসিসি। বিসিবি আইসিসির কাছে সময় চেয়েছে এবং অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে বলে জানিয়েছে।

এ বিষয়ে বিসিবির এক পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমাদের অবস্থান থেকে সরে না এলে ধরে নিতে হবে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে না। তবে পুরোপুরি ইতিবাচক সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না, কারণ আইসিসিও বিষয়টি হালকাভাবে নিচ্ছে না।” তিনি আরও জানান, আইসিসি নিরাপত্তার পূর্ণ গ্যারান্টি দিতে পারে কিংবা ওয়াকওভারের প্রস্তাব দিতে পারে। তবে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলংকায় আয়োজন করা হলে সেটিই হবে বিসিবির সবচেয়ে বড় সাফল্য।

বিসিবির আরেক পরিচালক বলেন, “১৮ কোটি ক্রিকেটপাগল মানুষের দেশকে বিশ্বকাপ থেকে বঞ্চিত করবে না—এই আশা এখনো করছি। তবে শেষ পর্যন্ত যদি বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে না পারে, তাহলে আর্থিকভাবে বিসিবি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।” ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত সমাধান না হলে এই সংকট বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেট সম্পর্কের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে।