এশিয়া কাপে ইতিহাস গড়তে চলেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল


ছবি-বাফুফে
বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল আফঈদা ও ঋতুপর্ণারা ২০২৬ সালের এএফসি নারী এশিয়া কাপের মঞ্চে দেশের জন্য নতুন ইতিহাস গড়তে চলেছেন। চার দশকের বিরতির পর এই মহাদেশীয় আসরে বাংলাদেশ প্রথমবার অংশ নিচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে শুরু হতে যাওয়া টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ চীন। দল ও কোচিং স্টাফদের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ, এবং বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরা সাফল্যের প্রত্যাশায় উন্মুখ।
চার দশকেরও বেশি অপেক্ষার পর নারীদের হাতেই এবার এশিয়ার মঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা। ১৯৮০ সালের কুয়েত আসরের পর দীর্ঘ বিরতি শেষে আফঈদা ও ঋতুপর্ণারা এশিয়ার সবচেয়ে বড় নারী ফুটবল টুর্নামেন্টে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করবেন। এএফসি নারী এশিয়া কাপের প্রথমবারের এই অংশগ্রহণে লাল-সবুজ ফুটবল কন্যারা দেশের জন্য নতুন ইতিহাস গড়ার সুযোগ পেয়েছে।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়াল অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে গিয়ে মেয়েদের অনুপ্রাণিত করেছেন। প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ চীনের শক্তিশালী দল। তাবিথ আউয়াল বলেন, “ফুটবল শুধু খেলার নাম নয়, পারফরম্যান্সই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মেয়েরা যদি নিজেদের সেরাটা দেন, চমক দেখানো সম্ভব।”
দলের ফিটনেস, কৌশল এবং প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্ট কোচিং স্টাফরা। ফিজিও, ফিটনেস ট্রেইনার এবং পুষ্টিবিদের সঙ্গে আলোচনা শেষে সভাপতি বলেন, “সামর্থ্যের দিক থেকে আমরা পিছিয়ে নেই। মাঠে নিজের সর্বোচ্চ দিতে হবে।” খেলোয়াড়দের অনুরোধে তিনি বোনাসের আশ্বাস দিয়েছেন, তবে শর্ত হলো দেশের জন্য সর্বস্ব উজাড় করা। ২০২৪ সালে সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বোনাস ঘোষণা করা হয়েছিল, যা এখনও বিতরণ হয়নি।
টুর্নামেন্টে ১২টি দল অংশ নিচ্ছে, তিনটি গ্রুপে বিভক্ত। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপের সঙ্গে সেরা দুই তৃতীয় দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে। গ্রুপে চীন ও উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিশালী দল থাকলেও বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখছে। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে পয়েন্ট অর্জনই তাদের মূল লক্ষ্য।
সিডনির মাঠে জাতীয় সংগীত বাজার সঙ্গে সঙ্গে এটি শুধু একটি ম্যাচ নয়, দীর্ঘ সংগ্রামের স্বীকৃতিও হবে। আফঈদা ও ঋতুপর্ণারা প্রতিটি পাস, প্রতিটি ট্যাকল এবং প্রতিটি গোলচেষ্টার মাধ্যমে নতুন ইতিহাস লিখবেন। এশিয়ার মঞ্চে বাংলাদেশের প্রথম পদার্পণই দেশের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। চীনের বিপক্ষে যদি চমক দেখানো যায়, তা হবে অতিরিক্ত অর্জন।









