জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের হেডফোনগুলোতে দেখা যাচ্ছে ক্যানসারের ঝুঁকি

প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রযুক্তি ডেস্ক
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ৭:০৭ এএম
জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের হেডফোনগুলোতে দেখা যাচ্ছে ক্যানসারের ঝুঁকি

নতুন একটি ইউরোপীয় গবেষণায় বাজারের জনপ্রিয় হেডফোনগুলোতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান থাকার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকরা বলেছেন, এসব হেডফোনের দীর্ঘ ব্যবহার ক্যানসারসহ নানা গুরুতর রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

এই গবেষণা ‘টক্সফ্রি লাইফ ফর অল’ প্রকল্পের আওতায় ৮১টি ইন-ইয়ার ও ওভার-ইয়ার হেডফোন পরীক্ষা করে। পরীক্ষা শেষে দেখা গেছে, অধিকাংশ হেডফোনে এমন রাসায়নিক রয়েছে, যা হরমোন সিস্টেমকে ব্যাহত করতে পারে।

বোস, প্যানাসনিক, স্যামসাং ও সেনহাইজারের মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের হেডফোনেও এই ক্ষতিকর উপাদান উপস্থিত পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞরা জানান, হেডফোনের প্লাস্টিক অংশ থেকে ধীরে ধীরে রাসায়নিক বের হয়ে ত্বকের সংস্পর্শে আসতে পারে, যা শরীরে শোষিত হতে পারে এবং তা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

গবেষকরা ‘এন্ডোক্রাইন ডিসরাপ্টিং’ বা হরমোন ব্যাহতকারী রাসায়নিকের উপস্থিতি পরীক্ষা করেন এবং এতে বিপিএ (বিসফেনল-এ) এবং বিপিএস (বিসফেনল-এস) পাওয়া যায়। এই রাসায়নিকগুলো নারী হরমোন ইস্ট্রোজেনের মতো কাজ করতে পারে, যা মেয়েদের মধ্যে বয়ঃসন্ধি আগেভাগে শুরু হওয়া এবং পুরুষদের হরমোন পরিবর্তনে সহায়ক হতে পারে। দীর্ঘ মেয়াদে এই রাসায়নিক ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

গবেষণায় অংশ নেওয়া হেডফোনের প্রায় ৯৮ শতাংশে বিপিএ পাওয়া গেছে। বিপিএসও তিন-চতুর্থাংশের বেশি নমুনায় উপস্থিত ছিল। কিছু হেডফোনে এই রাসায়নিকের মাত্রা প্রতি কেজিতে ৩১৫ মিলিগ্রাম পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা ইউরোপীয় কেমিক্যালস এজেন্সির নিরাপদ সীমা (১০ মিলিগ্রাম প্রতি কেজি) থেকে অনেক বেশি।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দীর্ঘ সময় হেডফোন ব্যবহার করলে ত্বকের মাধ্যমে এই রাসায়নিক শরীরে প্রবেশ করতে পারে। আগে দেখা গেছে, ঘামের মাধ্যমে বিপিএ ও বিপিএস সহজেই ত্বক থেকে শোষিত হতে পারে।

‘টক্সফ্রি লাইফ ফর অল’ প্রকল্পের প্রধান এমেসে গুলিয়াস ইউরোপীয় নীতিনির্ধারকদের কাছে দ্রুত এসব হরমোন ব্যাহতকারী রাসায়নিক নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভোক্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।