রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় সংঘটিত ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে ১১ জন গ্রেপ্তার

রাজনীতি ডেস্ক
রাজনীতি ডেস্ক
৭ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ৩:৪৫ এএম
ওসমান হাদি। ছবি: সংগৃহীত

ওসমান হাদি। ছবি: সংগৃহীত

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের পরিকল্পনায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ঘটনার সঙ্গে পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি ও ডিএনসিসির সাবেক কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর সংশ্লিষ্টতার তথ্যও পাওয়া গেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) দীর্ঘ তদন্ত শেষে মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি করা হয়েছে ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদকে। আসামিদের মধ্যে বর্তমানে ১১ জন গ্রেপ্তার হলেও ফয়সালসহ ৬ জন এখনো পলাতক রয়েছে।

তদন্তে জানা যায়, ওসমান হাদি ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন এবং বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের আগের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনামূলক বক্তব্য দিতেন। এসব বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। ডিবি পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ফয়সাল করিম ও তাঁর সহযোগীরা।

২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর দুপুর আড়াইটার দিকে পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ব্যাটারিচালিত রিকশায় যাত্রাকালে মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়ার পর ১৮ ডিসেম্বর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর পল্টন মডেল থানায় প্রথমে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হলেও ওসমান হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। তদন্তকালে গ্রেপ্তার আসামিদের জবানবন্দি, সিসিটিভি ফুটেজ, উদ্ধার করা আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলির ব্যালিস্টিক পরীক্ষা এবং ফরেনসিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়। পুলিশের দাবি, উদ্ধার করা অস্ত্রের ব্যালিস্টিক রিপোর্ট ইতিবাচক এসেছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। অভিযোগপত্রে উল্লিখিত ১৭ জনের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।” তিনি জানান, ভবিষ্যতে নতুন তথ্য মিললে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হতে পারে। বর্তমানে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।