Something went wrong

বিদ্রোহী প্রার্থীর বিভাজনে পাবনা-৩ ও ৪ আসনে বেকায়দায় বিএনপি

রাজনীতি ডেস্ক
রাজনীতি ডেস্ক
২৫ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ৩:২৭ এএম
BNP

BNP

পাবনা-৪ আসনে ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে এবার মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। তবে বহিষ্কারাদেশ উপেক্ষা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু। অতীতে বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দ্বিগুণ ভোট পেয়েও এই আসনে বিএনপি প্রার্থী আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছিল—এ স্মৃতি এখনো তাড়া করছে দলটিকে।

২০ জানুয়ারি মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম সরদার মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেও জাকারিয়া পিন্টু সরে দাঁড়াননি। পরদিন তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু এরপরও তিনি মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে জোর প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে ভোটারদের মধ্যেও বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের হিসাব অনুযায়ী পাবনা-৪ আসনে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি তুলনামূলকভাবে বেশি। কিন্তু দলীয় কোন্দল ও একাধিক প্রার্থী থাকায় অতীতে দলটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবারও বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে থাকায় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে—বিএনপি প্রার্থী কি এবার জামায়াত প্রার্থীর কাছে পরাজিত হতে যাচ্ছেন? বিশ্লেষকদের দাবি, জামায়াতে ইসলামী এই বিভাজনকে সুযোগ হিসেবে দেখছে।

উদ্ধৃতি:
এ বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, “বিএনপির একমাত্র প্রার্থী হিসেবে আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টু বলেন, “তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। জনগণের চাপে আমি নির্বাচনে আছি।”
জামায়াতের প্রার্থী আবু তালেব মণ্ডল বলেন, “কারও বিভাজন কাজে লাগিয়ে নয়, জনগণের ভালোবাসা ও দোয়ার মাধ্যমেই আমরা বিজয় অর্জন করব।”

পাবনা-৩ আসনের চিত্র:
চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত পাবনা-৩ আসনেও একই চিত্র। এখানে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন। তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মাঠে রয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও সাবেক এমপি কেএম আনোয়ারুর ইসলাম। মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় তাকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে বহিষ্কারাদেশ উপেক্ষা করে বিপুল কর্মী-সমর্থক নিয়ে তিনি প্রচারণা চালাচ্ছেন, যা দলটির জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

পাবনা-৩ ও ৪ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সক্রিয়তায় বিএনপি স্পষ্টতই চাপে রয়েছে। অতীত অভিজ্ঞতা ও বর্তমান বাস্তবতা মিলিয়ে দলীয় বিভাজন কাটিয়ে ঐক্য না আনতে পারলে এই দুই আসনে ফলাফল যে বিএনপির অনুকূলে নাও আসতে পারে—সে আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।

Advertisement
Advertisement