ঐক্য ফেরাতে মরিয়া বিএনপি, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য কড়া হুঁশিয়ারি

রাজনীতি ডেস্ক
রাজনীতি ডেস্ক
২ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ৯:৩৬ এএম
বিএনপি

বিএনপি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘটনায় চাপে পড়েছে বিএনপি। দলীয় প্রতীক ধানের শীষের পক্ষে ঐক্য অটুট রাখতে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দলটি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা, এমনকি বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছে বিএনপি নেতৃত্ব। বৃহস্পতিবার (তারিখ অনুযায়ী) দলীয় দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, যারা দলের মনোনয়ন পেয়েছেন, তাদের বাইরে কেউ যদি বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকতে চান, তাহলে দল কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

দলটির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, বর্তমানে দলীয় পদে থাকা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ওপর কড়া নজরদারি রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কেন্দ্রীয় নেতারা আরও জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে কয়েকজন স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় ও দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতা হলেও দলের বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে ধানের শীষের পক্ষে এক কাতারে থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদেরও দায়িত্ব রয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বোঝানোর। দলের ঐক্য বজায় রাখার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন তারা।

দলীয় সূত্র জানায়, স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়া নেতাদের শিগগিরই কেন্দ্রীয়ভাবে ডাকা হতে পারে। সেখানে প্রথমে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করা হবে এবং ভবিষ্যতে দল ক্ষমতায় গেলে মূল্যায়নের আশ্বাস দেওয়া হতে পারে। এরপরও কেউ অনড় থাকলে বহিষ্কারসহ কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি দলীয় পদে থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।

নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল ২৯ ডিসেম্বর। এতে দেখা গেছে, ৬০টির বেশি আসনে দলীয় পদে থাকা শতাধিক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলছে এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ২০ জানুয়ারি। ভোটগ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।

এদিকে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় ইতোমধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাসহ নয়জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, মহানগর ও জেলা পর্যায়ের একাধিক নেতা।

অন্যদিকে কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী দাবি করেছেন, মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রিয়তা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। তারা জানান, স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের চাপে তারা প্রার্থী হতে বাধ্য হয়েছেন। তবে দলের শৃঙ্খলা মেনে শেষ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কেউ কেউ।

সব মিলিয়ে নির্বাচনের মাঠে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্য ধরে রাখতে বিএনপি এখন কঠোর বার্তায় অটল। দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও ভোটের ফল নিজেদের পক্ষে আনতেই এই কড়া অবস্থান বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।