নিজ নির্বাচনি এলাকায় উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি

ফরোয়ার্ড লুকিং বাংলাদেশ গড়তে ভোট চাইলেন জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক
রাজনীতি ডেস্ক
২৯ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ৪:১৭ এএম
ঢাকা-১৫ আসনে গণসংযোগকালে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-১৫ আসনে গণসংযোগকালে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক একটি ‘ফরোয়ার্ড লুকিং’ বাংলাদেশ গড়তে ভোট চেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। অতীত নিয়ে আর রাজনৈতিক কামড়াকামড়ি নয়, জাতিকে বিভক্ত না করে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। বুধবার দুপুরে রাজধানীর মিরপুর-কাফরুল এলাকায় ঢাকা-১৫ আসনে নিজের নির্বাচনি এলাকায় গণসংযোগ শুরুকালে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে জনগণ যদি দায়িত্ব দেয়, তাহলে তিনি একটি আদর্শ ও বাসযোগ্য এলাকা গড়ে তুলতে চান। তিনি বলেন, “আমরা পেছনের বিষয় নিয়ে আর বিভাজনের রাজনীতি করতে চাই না। সবাই মিলেমিশে সামনে এগোতে চাই। জনগণের ওপর আমরা আস্থা রাখি, আস্থার ভার নিজেদের হাতে নিতে চাই না।”

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনি মাঠে সবাই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে প্রচার চালাক—এটাই কাম্য। তিনি বলেন, “আমার প্রতিদ্বন্দ্বীকে আমি স্বাগত জানাই। আসুন, শান্তভাবে, ভদ্রভাবে, সুশৃঙ্খলভাবে যার যার বক্তব্য জনগণের কাছে তুলে ধরি। শেষ সিদ্ধান্ত জনগণই নেবে।”

নিজ নির্বাচনি এলাকার বাস্তব সমস্যাগুলো তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, মিরপুর-কাফরুল এলাকায় জলাবদ্ধতা, রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা, মানসম্মত হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাব প্রকট। তিনি বলেন, এখানে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই, পর্যাপ্ত খেলার মাঠ, পার্ক, ওয়াকওয়ে কিংবা ব্যায়ামের জায়গাও নেই। এসব সমস্যা সমাধানে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুস্পষ্ট উন্নয়ন রূপকল্প তৈরি করা হয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এই এলাকা আমি অন্তরে ধারণ করি। আল্লাহ যদি সুযোগ দেন এবং জনগণ যদি রায় দেয়, তাহলে মিরপুর-কাফরুলকে একটি আদর্শ এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।” তিনি স্থানীয় রাস্তাগুলোর পরিকল্পিত ও টেকসই সংস্কার, মানসম্মত হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন।

গণসংযোগ শেষে তিনি ঢাকার সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, মিরপুরসহ পুরো ঢাকা মহানগরীকে একটি নিরাপদ শহরে পরিণত করা হবে, যেখানে জান, মাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে। যানজট নিরসন, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, বাস রুট ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানো এবং মেট্রোরেলের পরিসর বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি।

নারী নিরাপত্তা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ছিনতাই, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের কারণে নারীরা আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ঘর থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল, রাস্তাঘাট ও গণপরিবহণ—সব জায়গায় নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি, শক্তিশালী কমিউনিটি পুলিশিং এবং মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা জানান তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দ্রব্যমূল্য বাড়ানোর রাজনীতি বন্ধ করা হবে। নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখা, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ঠেকানোর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পাশাপাশি আইটি ও কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন, ফ্রিল্যান্সিং ও আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার কথাও বলেন জামায়াত আমির।

তিনি বলেন, “আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। পুরোনো দিনের সহিংসতা, পেশিশক্তি ও দুর্নীতির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য।”