নির্বাচনে ২২টি হাত আমরা একত্রিত হয়েছি: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক
রাজনীতি ডেস্ক
২৭ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ৫:৪৯ এএম
ডা. শফিকুর রহমান। ছবি সংগৃহীত

ডা. শফিকুর রহমান। ছবি সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গায় নির্বাচনি জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নির্বাচনে ১১টি রাজনৈতিক দলের ২২টি হাত একত্রিত হয়েছে, যা দেশের আপামর জনগণের ঐক্যের প্রতীক। তিনি দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও ফ্যাসিবাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর আহ্বান জানান।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা টাউন মাঠে ১১ দলীয় জোটের সমর্থনে জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। আসন্ন নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এ সমাবেশ আয়োজন করা হয়।

ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, কিছু এলাকায় ১১ দলীয় জোটের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়া নারী কর্মীদের সঙ্গে অশোভন ও অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করে তিনি বলেন, জামায়াত ও তার সমর্থকেরা অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে না, তারা কেবল আল্লাহর দরবারেই মাথা নত করে।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের জীবনের চেয়েও আমাদের মা-বোনদের ইজ্জতের মূল্য বেশি।” নির্বাচনি মাঠে যুক্তি ও কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আহ্বান জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ার করেন, কেউ ফ্যাসিবাদী আচরণ করলে জনগণ ব্যালটের মাধ্যমেই তার জবাব দেবে।

যুব সমাজের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, দীর্ঘদিনের পুরোনো ও দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে তরুণরা পরিবর্তন চায়। তাঁর ভাষায়, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মামলাবাজ রাজনীতি আর গ্রহণযোগ্য নয়, এবং জনগণ একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

তিনি দাবি করেন, অতীতে যেমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হয়েছে, তেমনি আসন্ন নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমেই আরেকটি গণতান্ত্রিক পরিবর্তন ঘটবে। এ পরিবর্তনের লক্ষ্য হবে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া এবং আধিপত্যবাদী রাজনীতির অবসান।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন। বক্তব্য শেষে ডা. শফিকুর রহমান চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট রুহুল আমিনের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন এবং উপস্থিত জনতার প্রতি ওই প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। আয়োজকেরা জানান, নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে জোটের পক্ষ থেকে গণসংযোগ ও প্রচারণা আরও জোরদার করা হবে।