দেশের স্বার্থে বিএনপি-জামায়াত একসঙ্গে কাজ করবে: ডা. শফিকুর


গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
সন্ধ্যা ৭টার দিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান গুলশানে অবস্থিত বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে পৌঁছান। সেখানে তিনি প্রথমে সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
এরপর তিনি কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় গিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “প্রিয় বাংলাদেশের স্বার্থে অতীতেও আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। আগামীতেও ইনশাল্লাহ দেশের স্বার্থে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো।”
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, কারাবন্দি অবস্থায় তিনি গুরুতর অসুস্থ হলে পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে সেই অনুরোধ উপেক্ষা করা হয় এবং বরং সরকারিভাবে বিষয়টি নিয়ে উপহাস করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান তারেক রহমানসহ খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ শোক শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্যও একটি বড় ক্ষতি।
সাক্ষাৎকালে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি দলে ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন এবং সাইফুল আলম খান মিলন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক ভবিষ্যতে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে কৌশলগত বোঝাপড়া ও রাজনৈতিক সমন্বয়ের ইঙ্গিত দিতে পারে। যদিও বৈঠকে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি, তবে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার বার্তা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি ও জামায়াতের এই বৈঠক এবং ঐক্যের ঘোষণা দেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। আগামী দিনে এই সমন্বয় কীভাবে বাস্তব রূপ পায়, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নজরদারি অব্যাহত থাকবে।







