টাকা খেয়েভোট বিক্রি করলে নেতা এসে রাস্তা খেয়ে ফেলবে: আখতার

রাজনীতি ডেস্ক
রাজনীতি ডেস্ক
১৪ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ৫:৩১ এএম
নির্বাচনি উঠান বৈঠকে বক্তব্য দিচ্ছেন রংপুর-৪ আসনের এমপি প্রার্থী আখতার হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনি উঠান বৈঠকে বক্তব্য দিচ্ছেন রংপুর-৪ আসনের এমপি প্রার্থী আখতার হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন ভোট কেনাবেচার রাজনীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রংপুরের পীরগাছা উপজেলার অন্নদানগর ইউনিয়নের খামার নয়াবাড়ী এলাকায় এক নির্বাচনি উঠান বৈঠকে তিনি বলেন, টাকা খেয়ে ভোট দিলে নির্বাচিত নেতা পরে মানুষের রাস্তা ও উন্নয়ন বরাদ্দ ‘খেয়ে ফেলবে’।

উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আখতার হোসেন বলেন, যারা টাকা দিয়ে ভোট কেনে, তারা ক্ষমতায় গিয়ে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে। তার ভাষায়, “ভোট কেনার পর সেই নেতা আর মানুষের জন্য কাজ করে না। তখন উন্নয়ন, রাস্তা কিংবা জনসেবার সুবিধা সাধারণ মানুষ আর পায় না।”

তিনি বলেন, যদি জনগণের সমর্থনে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পান, তাহলে উন্নয়ন বরাদ্দে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। প্রত্যেকটি ইউনিয়ন ও বড় বাজারে বোর্ড টানিয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে—কোন এলাকার কোন মসজিদ, মাদ্রাসা কিংবা মন্দিরের জন্য কতটুকু বরাদ্দ রয়েছে। এতে করে দুর্নীতি ও গোপন লেনদেনের সুযোগ বন্ধ হবে বলে তিনি দাবি করেন।

আখতার হোসেন আরও বলেন, “যারা পকেট ভারি করার রাজনীতি করে, চামচামির মাধ্যমে সুবিধা নেয়—তাদের রাজনীতি বন্ধ হয়ে যাবে।” তিনি জনগণকে সচেতন হয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান এবং অর্থের বিনিময়ে ভোট না দেওয়ার অনুরোধ করেন।

নির্বাচনি এই উঠান বৈঠকে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। বক্তব্য শোনার সময় উপস্থিতরা ভোটের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মোস্তাক আহমেদ, জেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী মোস্তাকিন বিল্লাহ, উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি রাইসুল ইসলাম, সেক্রেটারি নাজমুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোট কেনাবেচার বিরুদ্ধে এমন প্রকাশ্য বক্তব্য স্থানীয় নির্বাচনী রাজনীতিতে সচেতনতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের বক্তব্য ও প্রতিশ্রুতি ভোটারদের সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।