যাকাত ব্যবস্থাপনায় দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় ডেস্ক
৮ মার্চ, ২০২৬ এ ৪:২৫ এএম
যমুনায় আলেম-ওলামা ও এতিমদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

যমুনায় আলেম-ওলামা ও এতিমদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যাকাত ব্যবস্থাকে কাজে লাগালে দেশে দারিদ্র্য কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সঠিক পরিকল্পনায় যাকাত বণ্টন করা গেলে আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে এই ব্যবস্থার মাধ্যমেই দারিদ্র্য বিমোচনে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব।

শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর যমুনা ভবনে দেশের আলেম-ওলামা ও এতিমদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি যাকাতের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে ধনী-দরিদ্র মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় চার কোটি পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে দরিদ্র ও হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করে প্রতিবছর পর্যায়ক্রমে পাঁচ লাখ পরিবারকে যদি এক লাখ টাকা করে যাকাত দেওয়া হয়, তবে অধিকাংশ পরিবার পরের বছর আর যাকাতের ওপর নির্ভরশীল থাকবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ওলামা-মাশায়েখদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যাকাত ব্যবস্থাপনার বিষয়টি যদি যৌক্তিক মনে হয়, তবে এ বিষয়ে বিত্তবান মানুষদের সচেতন করতে আলেম-ওলামারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তাদের উদ্যোগে সমাজে যাকাত প্রদানের বিষয়ে সচেতনতা আরও বাড়ানো সম্ভব।

যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দারিদ্র্য কমানোর লক্ষ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা, ইসলামিক স্কলার ও সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিদ্যমান যাকাত বোর্ড পুনর্গঠন করা যেতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে ইসলামী বিশ্বে বাংলাদেশ একটি মডেল হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করতে পারবে।

তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রতি বছর বাংলাদেশে যাকাতের পরিমাণ ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। তবে সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের অভাবে এই অর্থ দারিদ্র্য বিমোচনে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এ সময় তিনি পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ানোর প্রবণতারও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, রমজান ত্যাগ, সংযম ও রহমতের মাস হলেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই সময়কে লাভের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেন। তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, সাধারণত রমজানের প্রথম দিনেই আলেম-ওলামা ও এতিমদের সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। তবে চলমান পরিস্থিতির কারণে এবার কিছুটা দেরিতে এই আয়োজন করা হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবের কারণে ব্যয় সংকোচন নীতির অংশ হিসেবে এ বছর মাত্র দুটি ইফতার মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।