মেঘালয় থেকে হাদির হত্যাকারী ফয়সালের ২ সহযোগী আটক

জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় ডেস্ক
২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ এ ১২:০১ পিএম
হাদি হত্যা মামলার তদন্ত অগ্রগতি নিয়ে মিন্টো রোডে ব্রিফিং করেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মো. নজরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

হাদি হত্যা মামলার তদন্ত অগ্রগতি নিয়ে মিন্টো রোডে ব্রিফিং করেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মো. নজরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম ওরফে দাউদ খানের দুই সহযোগীকে ভারতের মেঘালয় থেকে আটক করেছে স্থানীয় পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মো. নজরুল ইসলাম রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর মিন্টো রোডে হাদি হত্যা মামলার তদন্ত অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে ডিএমপির এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম বর্তমানে ভারতের মেঘালয়ে অবস্থান করছেন বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাকে ধরতে সংশ্লিষ্ট দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় চলছে।

অতিরিক্ত কমিশনার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, মেঘালয় পুলিশ ফয়সালের দুই সহযোগীকে আটক করেছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হবে।

তবে হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানায়, মূল সন্দেহভাজন ফয়সাল গ্রেপ্তার না হওয়ায় ঘটনার মোটিভ উদঘাটনে কিছুটা সময় লাগছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে রাজধানীর পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে হামলার শিকার হন শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি। জুমার নামাজ শেষে মতিঝিল মসজিদ থেকে প্রচারণা চালিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলে আসা ফয়সাল করিম ও তার অজ্ঞাত সহযোগীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর ১৮ ডিসেম্বর রাতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে হাদির মৃত্যুর পর আদালতের আদেশে মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা যুক্ত করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকলকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।