চট্টগ্রাম বন্দরে মাশুল বেড়ে গেল ৪১ শতাংশ

আজকের প্রথা প্রতিবেদন
আজকের প্রথা প্রতিবেদন
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ এ ৪:৪৭ এএম
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরে বিভিন্ন সেবা খাতে ট্যারিফ (মাশুল) বাড়িয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। প্রায় চার দশক পর এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনায় প্রকাশিত এ প্রজ্ঞাপন সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে। হঠাৎ এই বৃদ্ধিতে ভোক্তা পর্যায়ে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বন্দরের ৫২টি খাতের মধ্যে ২৩টিতে সরাসরি বাড়ানো হয়েছে মাশুলের হার। নতুন ট্যারিফ তফসিলে ভাড়া, টোল, রেইল, ফি ও অন্যান্য খাতে বর্ধিত হারে আদায় শুরু হয়েছে। ডলারের বিনিময়মূল্য ধরা হয়েছে প্রতি ডলার ১২২ টাকা, যা বাড়লে মাশুলও আরও বাড়বে।

সবচেয়ে বেশি মাশুল বেড়েছে কনটেইনার পরিবহন খাতে। ২০ ফুট লম্বা প্রতিটি কনটেইনারে আগে ১১ হাজার ৮৪৯ টাকা মাশুল আদায় হলেও এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ২৪৩ টাকা। এতে গড়ে ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি ঘটেছে। আমদানি ও রপ্তানি কনটেইনারের ক্ষেত্রেও তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে প্রতিটি কেজি পণ্যের জন্য আগের তুলনায় অতিরিক্ত ৪৭ পয়সা মাশুল গুনতে হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক জানান, “সেবা খাতের ওপর নির্ভর করে মাশুল ৩৫ থেকে ৪১ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। সফটওয়্যার আপডেটের কাজ শেষ হলে নতুন ট্যারিফ পুরোপুরি কার্যকর হবে।”

অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এত বড় অঙ্কে ট্যারিফ বৃদ্ধি ভোক্তা পর্যায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট খায়রুল আলম সুজন জানান, “আমরা সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন ৪১ শতাংশ পর্যন্ত মাশুল বাড়ানো হয়েছে, যা ভোক্তার ওপর সরাসরি চাপ ফেলবে।”

দেশের আমদানি-রপ্তানিনির্ভর সমুদ্র বাণিজ্যের ৯২ শতাংশ এবং কনটেইনার পরিবহনের ৯৮ শতাংশ হয়ে থাকে চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে। ফলে এই নতুন সিদ্ধান্তের প্রভাব সরাসরি জাতীয় অর্থনীতিতে পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।