আবারও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হচ্ছে চরমপন্থিরা: র‍্যাব

জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় ডেস্ক
১১ মার্চ, ২০২৬ এ ৩:৪৯ এএম
র‌্যাব। ছবি সংগৃহীত

র‌্যাব। ছবি সংগৃহীত

 

অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন চরমপন্থি সংগঠন আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে ঢাকার আদাবর ও সিরাজগঞ্জ এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ১২টি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল গোলাবারুদ এবং অস্ত্র পরিবহণে ব্যবহৃত দুটি প্রাইভেটকার জব্দ করার কথাও জানানো হয়। অভিযানে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

সংবাদ সম্মেলনে ব্রিফ করেন র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী। তিনি বলেন, গ্রেফতার হওয়া দুজন হলেন পাবনা জেলার অস্ত্র ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী আলমগীর হোসেন ওরফে শুটার আলমগীর (৪৫) এবং রকিব রানা (৫৫)। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ অবৈধভাবে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে যে এসব অস্ত্র চট্টগ্রাম এলাকা থেকে ঢাকায় আনা হয়েছিল। পরে সেগুলো পাবনা অঞ্চলে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মনে করছে, অস্ত্রগুলো নির্দিষ্ট এলাকায় সন্ত্রাসী তৎপরতায় ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই আনা হচ্ছিল।

ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, পাবনা ও কুষ্টিয়া অঞ্চলে বিস্তৃত চরাঞ্চল রয়েছে। এসব চরাঞ্চল দখল এবং বালুমহালে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায়ই বিভিন্ন চরমপন্থি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো সেই ধরনের আধিপত্য বিস্তারের সংঘর্ষে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, অতীতে আত্মসমর্পণ করা কিছু চরমপন্থি সদস্য আবারও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন নিষিদ্ধ বা চরমপন্থি সংগঠন নতুন করে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে বলেও গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

র‌্যাব জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চরমপন্থি তৎপরতা প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।