সংসদের প্রথম অধিবেশনে তারেক রহমান: দেশে গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু

জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় ডেস্ক
১২ মার্চ, ২০২৬ এ ৫:২৯ এএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবিঃ সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে সভাপতি পদ শূন্য রেখেই। বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি বলেন, আজ থেকে দেশে কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হলো।

অধিবেশনে বক্তব্যের শুরুতেই ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে আত্মত্যাগকারী সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত এই গণতান্ত্রিক যাত্রা দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে তিনি কখনো আপোষ করেননি। তারেক রহমান খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং দেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানও স্মরণ করেন।

তিনি আরও বলেন, দল-মত নির্বিশেষে তিনি দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন। প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করে তোলাই বিএনপির লক্ষ্য। এভাবেই একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় দলটি। তিনি এই লক্ষ্য অর্জনে সব রাজনৈতিক দল ও জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে কোনো বিরোধ থাকার কথা নয়। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অধিবেশনের এক পর্যায়ে সংসদ পরিচালনার জন্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রস্তাবটি সমর্থন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর মধ্য দিয়ে নতুন সংসদের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বার্তা দিয়েছে। গণতন্ত্র, ঐক্য ও স্বনির্ভরতার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলার দিকনির্দেশনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।