রোজার শুরুতেই পণ্যের দামে আগুন, ব্রয়লার কেজিতে ৫০ টাকা বৃদ্ধি

জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় ডেস্ক
২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ৫:৫৪ এএম
রমজানের প্রথম দিনেই ব্রয়লার, সবজি, ডাল ও খেজুরসহ নিত্যপণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি। ছবিঃ সংগৃহীত

রমজানের প্রথম দিনেই ব্রয়লার, সবজি, ডাল ও খেজুরসহ নিত্যপণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি। ছবিঃ সংগৃহীত

রমজানের প্রথম দিনেই নগরীর বাজারগুলোতে নিত্যপণ্যের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগি, সবজি, ডাল, খেজুর ও ভোজ্যতেলের দাম একযোগে বেড়েছে। প্রশাসন বলছে বাজারে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহে বড় কোনো সংকট নেই। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো হচ্ছে।

বাজারে দুই দিনের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ৫০ টাকা বেড়েছে। আগে ১৭০ টাকায় বিক্রি হওয়া মুরগি এখন ২২০ থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির দামও বেড়ে ৩৫০ টাকায় উঠেছে। গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা রোজার আগে ছিল ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা। খাসির মাংসে বড় পরিবর্তন না থাকলেও অন্যান্য পণ্যে ঊর্ধ্বগতি স্পষ্ট।

সবজির বাজারেও একই চিত্র। ৭-৮ টাকার লেবু এখন বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। বেগুনের কেজি ৭০-৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০-১৩০ টাকায় উঠেছে। ৫০ টাকার শসা বিক্রি হচ্ছে ১১০-১২০ টাকায়। কাঁচা মরিচের দাম ৭০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৬০ টাকা। আলু ও পেঁপে ছাড়া প্রায় সব সবজি ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে কিছু চালের দাম কেজিতে ২-৩ টাকা কমলেও খুচরা বাজারে তার প্রভাব দেখা যাচ্ছে না।

ডালের বাজারেও অস্থিরতা রয়েছে। মসুর ও এঙ্কর ডালের দাম কেজিতে ৫ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মোটা দানার মসুর গত বছরের ৮০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১০০ টাকা। এঙ্কর ডাল ৭০ টাকা থেকে বেড়ে ১১০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আটা, সয়াবিন তেল ও পেঁয়াজের দামও ঊর্ধ্বমুখী। দুই কেজির আটা ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০ টাকা হয়েছে এবং সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ছোলার বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আমদানি স্বাভাবিক থাকায় ছোলার পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে।

শুল্ক কমানোর পরও খেজুরের বাজারে স্বস্তি নেই। সরকার শুল্কহার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামালেও দাবাস, বরই, কালমি, সুক্কারি, মাবরুম, মরিয়ম ও মেডজুলসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় খেজুরের দাম বেড়েছে। রমজানের আগে ৪৯০-৫০০ টাকার দাবাস এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৫০-৫৭০ টাকায়। অন্যান্য প্রজাতির খেজুরেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রমজান উপলক্ষে নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক। অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ নেই। তবে বাজারে লাগামহীন দামের কারণে ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজার মনিটরিং জোরদার ও সিন্ডিকেট ভাঙতে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভোক্তাদের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।