Something went wrong

প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি ছাড়া ভবিষ্যৎ সম্ভব নয়: প্রধান উপদেষ্টা

জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় ডেস্ক
২৯ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ৪:৪৯ এএম
ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো–২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো–২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে দেশে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যৎ বিশ্ব প্রযুক্তিনির্ভর হবে এবং সেই বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এখনই বাংলাদেশকে প্রস্তুতি নিতে হবে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) আয়োজিত ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো–২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আগামী পৃথিবী মৌলিকভাবে আজকের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে। বর্তমানে যা কল্পনার বাইরে মনে হচ্ছে, ভবিষ্যতে সেটিই বাস্তব হয়ে উঠবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বৈশ্বিক এই দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের গতি ও প্রস্তুতি বাড়াতে না পারলে বাংলাদেশকে বড় ধরনের পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়তে হবে।

অধ্যাপক ড. ইউনূস বলেন, বাইরে থেকে মনে হতে পারে বাংলাদেশ অন্য দেশগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে চিন্তা, কর্মপরিকল্পনা এবং প্রস্তুতির জায়গায় অনেক ক্ষেত্রেই দেশ পিছিয়ে রয়েছে। এই অবস্থার জন্য তিনি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতকে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়াকে দায়ী করেন।

আইসিটি খাতকে ‘মূল খাত’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ভবিষ্যৎ এই খাত থেকেই গড়ে উঠবে। অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী খাতগুলো টিকে থাকলেও প্রযুক্তি হবে সেই চালিকাশক্তি, যা বাতাসের মতো সব খাতকে স্পর্শ করে নতুন রূপ দেবে। তাই নীতিনির্ধারণে এখনই প্রচলিত চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

ডিজিটাল শাসনব্যবস্থা প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছাতে হলে প্রকৃত ডিজিটাল গভর্ন্যান্স চালু করতে হবে। মানুষ সরকারে যাবে না, বরং সরকারি সেবা মানুষের কাছে পৌঁছাবে— এমন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে দুর্নীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রজন্মগত পরিবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, আজকের শিশুরা প্রযুক্তির সঙ্গে সহজাতভাবেই যুক্ত। কিন্তু প্রজন্মগুলোর মধ্যে বাড়তে থাকা চিন্তাগত দূরত্ব নেতৃত্বের সংকট তৈরি করছে। বয়স্ক প্রজন্ম তরুণদের নেতৃত্ব দিতে পারছে না, এটি কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে নয়, বরং চিন্তাভাবনার ভিন্নতার কারণে হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এক্সপো আয়োজন প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এ ধরনের প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে কী ধরনের ভবিষ্যৎ কল্পনা করা হচ্ছে এবং সে অনুযায়ী কী ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে— দেশের ভবিষ্যৎ অনেকাংশেই তার ওপর নির্ভর করবে। তিনি প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।

চার দিনব্যাপী এই প্রযুক্তি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে আইসিটি বিভাগ, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (বিএইচটিপিএ) ও বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)। ‘বাংলাদেশ টু দ্য ওয়ার্ল্ড’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই এক্সপো চলবে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী।

Advertisement
Advertisement