Something went wrong
সেনাবাহিনীর অভিযানে

অস্ত্র ভাড়া ও বিক্রিতে জড়িত নিউ মার্কেট চক্রের পতন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ আগস্ট, ২০২৫ এ ৩:২৯ এএম
নিউ মার্কেটে সেনাবাহিনীর অভিযানে ১১০০-এর বেশি অস্ত্র উদ্ধার। ছবি: গ্রাফিক্স

নিউ মার্কেটে সেনাবাহিনীর অভিযানে ১১০০-এর বেশি অস্ত্র উদ্ধার। ছবি: গ্রাফিক্স

রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে উদ্ধার হয়েছে এক হাজার একশোরও বেশি দেশীয় ধারালো অস্ত্র। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে ছিল সামুরাই চাপাতি ও বিভিন্ন ধরনের ধারালো ছুরি, যা দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছিল। এসব অস্ত্র সন্ত্রাসীদের কাছে বিক্রি ও ভাড়া দেওয়া হতো, এমনকি ফ্রি হোম ডেলিভারিও দেওয়া হতো বলে জানা গেছে।

শনিবার (৯ আগস্ট) দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে তিনটি দোকান থেকে নয়জনকে আটক করে সেনাবাহিনী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অবৈধ অস্ত্র বিক্রি ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

রাতে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ আর্মি ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিম আহমেদ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইকারীদের অপরাধ প্রবণতা বেড়েছে। উদ্ধার হওয়া সামুরাই ছুরিগুলো গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসার পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এবং গ্রেপ্তারকৃত সন্ত্রাসীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অস্ত্রগুলো নিউ মার্কেট এলাকা থেকে ভাড়া ও বিক্রি করা হতো এবং গ্রাহকের কাছে ফ্রি হোম ডেলিভারি পৌঁছে দেওয়া হতো।

তিনি আরও জানান, দুই দিনের ধারাবাহিক অভিযানে নিউ মার্কেটের একাধিক দোকান ও গুদাম থেকে এসব ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত হয় না। বরং গত কয়েক মাসে একাধিক হত্যা, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় এগুলো ব্যবহার হয়েছে। দোকানগুলো সামনের দিকে সাধারণ পণ্য বিক্রি করলেও সামুরাই চাপাতি গোপনে গুদামে মজুত রাখা হতো এবং কুরিয়ারের মাধ্যমে সরবরাহ দেওয়া হতো, বিশেষত কিশোর গ্যাংদের কাছে।

এ পর্যন্ত ৩০৬টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৮২১৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৩৮টি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার এবং ৮১৮ জন সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী ও দুষ্কৃতকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রসমূহ গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অপরাধীদের যোগসাজশ রয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। সেনাবাহিনী ব্যবসায়ী সমাজকে সতর্ক করে জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করতে হবে।

Advertisement
Advertisement