অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ শুরু আজ, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক
রাজনীতি ডেস্ক
২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ এ ৩:৩৮ এএম
বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রস্তুত অমর একুশে বইমেলা ২০২৬।

বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রস্তুত অমর একুশে বইমেলা ২০২৬।

‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বইমেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। উদ্বোধন শেষে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে সম্মাননা তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের বইমেলায় মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠান স্টল পেয়েছে। লিটল ম্যাগাজিন চত্বর রাখা হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চসংলগ্ন গাছতলায়। সেখানে ৮৭টি লিটল ম্যাগাজিনের জন্য আলাদা স্টল বরাদ্দ রয়েছে। শিশুচত্বরে থাকছে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান।

ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। ছুটির দিনে মেলা শুরু হবে সকাল ১১টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। তবে রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কাউকে মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত মূলমঞ্চে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। প্রতি শুক্র ও শনিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত থাকবে ‘শিশুপ্রহর’। অমর একুশে উদ্যাপনের অংশ হিসেবে শিশু-কিশোরদের জন্য চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন রাখা হয়েছে।

বই বিক্রিতে বরাবরের মতো এবারও ২৫ শতাংশ কমিশন রাখা হয়েছে। বাংলা একাডেমি ও অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এ হারেই বই বিক্রি করবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নির্ধারিত কমিশনে বই বিক্রি করবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রমজান উপলক্ষে সেখানে মুসল্লিদের জন্য তারাবি নামাজের ব্যবস্থাও থাকবে।

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) মো. সরওয়ার জানিয়েছেন, বইমেলায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা নেই, তবে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি থাকবে। তিনি বলেন, “নারী ও শিশুদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুরো মেলা এলাকায় সিসিটিভি নজরদারি থাকবে।” পাশাপাশি লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সেন্টার, ব্রেস্টফিডিং কর্নার, শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র, প্রাথমিক চিকিৎসা ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা রাখা হয়েছে। ধর্ম অবমাননা বা উসকানিমূলক বই যাতে মেলায় না আসে, সে বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারির কথাও জানান তিনি।

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশেষ ডাইভারশন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মেলা চলাকালে ভারী যানবাহন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত সড়ক পরিস্থিতি বিবেচনায় সময়ে সময়ে খোলা বা বন্ধ রাখা হবে। দর্শনার্থীদের গেটের আগে নেমে হেঁটে মেলায় প্রবেশের অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি। সব প্রস্তুতি শেষে আজ দুপুরে পর্দা উঠছে বাঙালির আবেগ ও সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় মিলনমেলা অমর একুশে বইমেলার।