ফের বাড়ছে ডলারের দাম, আন্তঃব্যাংকে সর্বোচ্চ ১২২.৩৫ টাকা


আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রভাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে আবারও বাড়ছে ডলারের দর। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বাড়তে শুরু করেছে মার্কিন ডলারের দাম। গত শনিবার ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ ইরান আক্রমণের পর বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে। একই সঙ্গে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদের হার না কমানোর সিদ্ধান্ত দেওয়ায় ডলারের চাহিদা আরও বেড়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (৪ মার্চ) দেশের আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে প্রতি ডলার সর্বোচ্চ ১২২ টাকা ৩৫ পয়সায় বিক্রি হয়েছে। এর আগে প্রায় এক সপ্তাহ ডলারের দর ১২২ টাকা ৩০ পয়সার মধ্যে ছিল। এদিন সর্বনিম্ন দর ছিল ১২২ টাকা ৩২ পয়সা। ফলে গড় দর দাঁড়ায় ১২২ টাকা ৩৩ পয়সা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত রেফারেন্স রেটও বুধবার ১২২ টাকা ৩৩ পয়সায় ওঠে, যা গত ১৫ ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ।
সূত্র জানিয়েছে, বাজারে ডলারের প্রবাহ পর্যাপ্ত রয়েছে। দৈনন্দিন চাহিদা-সরবরাহের সাময়িক সমন্বয়ের কারণেই এক দিনের ব্যবধানে দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে বাংলাদেশে ডলারের বাজার স্থিতিশীল থাকবে বলে আশাবাদী Bangladesh Bank।
আন্তর্জাতিক বাজারেও ডলারের বিপরীতে অন্যান্য মুদ্রার মান কমেছে। গত শনিবার ০.৮৫ ইউরো দিয়ে এক ডলার কেনা গেলেও বর্তমানে ০.৮৬ ইউরো লাগছে। একই সময়ে পাউন্ডের বিপরীতেও ডলার শক্তিশালী হয়েছে। ০.৭৪ পাউন্ড থেকে বেড়ে এখন ০.৭৫ পাউন্ডে এক ডলার মিলছে। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ডলার কিনছেন।
ব্যাংকাররা বলছেন, ডলারের দর বাড়ার পেছনে দুটি বড় কারণ রয়েছে। প্রথমত, Federal Reserve নীতি সুদের হার কমায়নি এবং দ্রুত কমানোর ইঙ্গিতও দেয়নি। দ্বিতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ডলারের চাহিদা বাড়িয়েছে। এতে টাকার পাশাপাশি ইউরো, পাউন্ড ও ইয়েনের বিপরীতে ডলার শক্তিশালী হয়েছে।
তবে ইতিবাচক দিক হলো, রপ্তানি আয় কিছুটা কমলেও রেমিটেন্স প্রবাহ রেকর্ড পরিমাণে বাড়ছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও শক্তিশালী হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের গ্রস রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রিজার্ভ বাড়ায় বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার ঝুঁকি আপাতত কম।










