Something went wrong

জাপানের অর্থনৈতিক পতন রোধে সরকারের নতুন উদ্যোগ

অর্থনীতি ডেস্ক
অর্থনীতি ডেস্ক
১৭ নভেম্বর, ২০২৫ এ ৫:৩০ এএম
অর্থনৈতিক সংকোচন মোকাবিলায় নতুন প্রণোদনা প্যাকেজ আনতে প্রস্তুতি নিচ্ছে জাপান সরকার। ছবি: সংগৃহীত

অর্থনৈতিক সংকোচন মোকাবিলায় নতুন প্রণোদনা প্যাকেজ আনতে প্রস্তুতি নিচ্ছে জাপান সরকার। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়কালে জাপানের অর্থনীতি ০.৪ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে বলে সরকারি পরিসংখ্যানে প্রকাশ পেয়েছে। যদিও পূর্বাভাস ছিল সংকোচন ০.৬ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, তবুও এটি ২০২৪ সালের প্রথম প্রান্তিকের পর দেশটির প্রথম অর্থনৈতিক সংকোচন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অর্থনীতির এই স্থবিরতা ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

এ বছর অক্টোবরে দায়িত্ব গ্রহণ করা জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাচি অর্থনীতিকে পুনরায় গতিশীল করতে তার সরকারকে নতুন প্রণোদনা প্যাকেজ প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছেন। স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাতায়ামা জানিয়েছেন যে প্রস্তাবিত প্রণোদনা প্যাকেজের আকার ১৭ ট্রিলিয়ন ইয়েনের বেশি হতে পারে, যা মার্কিন ডলারে ১১০ বিলিয়নেরও অধিক। আগামী শুক্রবার মন্ত্রিসভা এ প্যাকেজ অনুমোদন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা। ক্যাপিটাল ইকোনমিক্সের বিশ্লেষক মার্সেল থিয়েলিয়্যান্ট সতর্ক করে বলেন, তাইওয়ান ইস্যুতে তাকাচির মন্তব্যের পর চীনের সঙ্গে বিদ্যমান উত্তেজনা একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য বিরোধে রূপ নিতে পারে। তিনি জানান, বিরল খনিজ রপ্তানি সীমিত করা বা জাপানি পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মতো পদক্ষেপ জাপানের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষত দেশটির গাড়ি শিল্প আগে থেকেই চীনা বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রতিযোগিতায় বড় চাপে রয়েছে।

গত ৭ নভেম্বর সংসদে বক্তৃতাকালে প্রধানমন্ত্রী তাকাচি বলেন, তাইওয়ানে সামরিক হামলা হলে ‘যৌথ আত্মরক্ষা’ নীতির আওতায় জাপানের সেনা পাঠানো যৌক্তিক হতে পারে। এই মন্তব্যের জেরে চীন ও জাপান পরস্পরের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এবং বেইজিং তাদের নাগরিকদের জাপান ভ্রমণ এড়াতে সতর্কতা জারি করে।

ইতিহাসে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত কয়েক দশক তাইওয়ান জাপানের শাসনে ছিল। বর্তমানে বেইজিং দাবি করে, তাইওয়ান তাদের ভূখণ্ডের অংশ এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করেও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হবে। দুই দেশই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার হলেও পারস্পরিক সন্দেহ, ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সামরিক ব্যয় সংক্রান্ত টানাপোড়েন প্রায়ই তাদের সম্পর্কের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।

Advertisement
Advertisement