করোনা মহামারির পর সর্বোচ্চ বেড়েছে তেলের দাম, ব্রেন্ট ক্রুড ১০৮ ডলার ছাড়াল

অর্থনীতি ডেস্ক
অর্থনীতি ডেস্ক
৯ মার্চ, ২০২৬ এ ৩:৫১ এএম
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় উত্থান। ছবি সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় উত্থান। ছবি সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। বিশ্ববাজারে এক ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৮ দশমিক ৭৭ ডলারে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২০ সালে করোনা মহামারির পর এটাই একদিনে তেলের দামের সর্বোচ্চ উত্থান। সংঘাতের কারণে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বাজারে এই অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহেই তেলের দাম প্রায় ২৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকলে বিশ্বব্যাপী ভোক্তা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী সপ্তাহ কিংবা মাসজুড়ে জ্বালানির উচ্চমূল্যের চাপ সহ্য করতে হতে পারে। একই সঙ্গে সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাঘাত ও সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকিও বাড়ছে।

শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব লোহিত সাগর অঞ্চল থেকে তেলের চালান বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে শিপিং তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে যে বিপুল পরিমাণ তেল সরবরাহ হয়, তার ঘাটতি পূরণে এই উদ্যোগ এখনো যথেষ্ট নয়।

অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড ব্যাংকিং গ্রুপ (এএনজেড)-এর সিনিয়র পণ্য কৌশলবিদ ড্যানিয়েল হাইন্স বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদকরা গুদামে তেল জমে থাকার কারণে উৎপাদন কমাচ্ছেন। তার মতে, যদি পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে তেলের কূপ বন্ধ করতে হয়, তাহলে শুধু উৎপাদনই কমবে না, সংঘাত শেষ হলেও সরবরাহ স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।

এদিকে জেপি মরগানের প্রধান অর্থনীতিবিদ ব্রুস কাসমান বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি এখনো মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্ববাজারে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন করা হয়। এই রুটে কোনো বিঘ্ন ঘটলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে।

তিনি রয়টার্সকে জানান, স্বল্পমেয়াদে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১২০ ডলারের দিকে যেতে পারে। তবে সংঘাত কিছুটা কমে এলে দাম আবার কমতে পারে। কিন্তু স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান না হলে বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮০ ডলারের কাছাকাছি উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, যদি সংঘাত আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারেরও বেশি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া এবং মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।