Something went wrong
মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ বাস্তবায়ন না করলে

১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের সব মিল বন্ধের ঘোষণা বিটিএমএর

অর্থনীতি ডেস্ক
অর্থনীতি ডেস্ক
২২ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ৯:২৫ এএম
কারওয়ানবাজারে বিটিএমএ কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন সংগঠনটির সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। ছবি: সংগৃহীত

কারওয়ানবাজারে বিটিএমএ কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন সংগঠনটির সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। ছবি: সংগৃহীত

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ বাস্তবায়ন না হলে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের সব স্পিনিং মিল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারে বিটিএমএ কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন সংগঠনটির সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দেশের টেক্সটাইল শিল্প বর্তমানে ‘স্টেট অব ইমার্জেন্সি’ অবস্থায় পৌঁছেছে। জিডিপিতে এই খাতের অবদান প্রায় ১৩ শতাংশ হলেও অন্তর্বর্তী সরকার শিল্পের সমস্যা শোনার জন্য ১৩ মিনিট সময়ও দিচ্ছে না। আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে একে অন্যের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিটিএমএ সভাপতি আরও বলেন, “বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ বাস্তবায়ন না হলে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সব স্পিনিং মিল বন্ধ থাকবে। এরপর ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কোনো দায়-দেনা আমাদের পক্ষে পরিশোধ করা সম্ভব হবে না। এর ফলে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে যে বিপর্যয় ঘটবে, তার সম্পূর্ণ দায় সরকারকে নিতে হবে।” এ ছাড়া এই সিদ্ধান্তের কারণে শ্রমিক অসন্তোষ তৈরি হলে তার দায়ও সরকারের ওপর বর্তাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মালিকদের আর্থিক দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে শওকত আজিজ রাসেল বলেন, “আমাদের পুঁজি অর্ধেকে নেমে এসেছে। ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের কোনো বাস্তবসম্মত পথ নেই। সব সম্পত্তি বিক্রি করলেও দেনা শোধ করা সম্ভব হবে না।”

প্রসঙ্গত, দেশীয় টেক্সটাইল শিল্প রক্ষায় সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে গত ১২ জানুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) চিঠি পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর বর্তমানে সুতা আমদানির তথ্য যাচাই-বাছাই করছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত দুই অর্থবছরে বন্ড সুবিধায় সুতার আমদানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, যার ফলে দেশীয় সুতার বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বর্তমানে সুতা উৎপাদনকারী মিলগুলো তাদের উৎপাদন ক্ষমতার মাত্র ৬০ শতাংশ ব্যবহার করতে পারছে। এতে করে দেশীয় মিলগুলো ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং ইতোমধ্যে প্রায় ৫০টি বড় সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে।

উদ্যোক্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে আরও অনেক মিল বন্ধ হয়ে যাবে এবং ভবিষ্যতে নিট গার্মেন্টস খাত আমদানি সুতার ওপর অতিরিক্তভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। এতে গার্মেন্টস শিল্পের প্রতিযোগী সক্ষমতা হ্রাস, লিড টাইম বৃদ্ধি, মূল্য সংযোজন কমে যাওয়া এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমার ঝুঁকি তৈরি হবে।

বিটিএমএ নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, জরুরি ভিত্তিতে সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান না হলে দেশের টেক্সটাইল খাত অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে, যার প্রভাব পড়বে সামগ্রিক অর্থনীতিতেও।

Advertisement
Advertisement