তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা-নতুন নির্দেশনা দিল সরকার

অর্থনীতি ডেস্ক
অর্থনীতি ডেস্ক
৬ মার্চ, ২০২৬ এ ৫:০৪ পিএম
রাজধানীর একটি ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর একটি ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন পরিদর্শনকালে তারা এ কথা জানান।

পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশে এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং তাৎক্ষণিক কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। তবে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায়, “আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে দেশে তেলের দাম না বাড়ানোর। যদি পরিস্থিতি একেবারেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন জনগণের সঙ্গে বিষয়টি ভাগাভাগি করা হবে।”

সরকারি পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সংকট এড়াতে নতুন ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী রোববার থেকে দেশে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি করা হবে। এ বিষয়ে শিগগিরই দেশের সব পেট্রল পাম্পকে লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হবে।

এদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নিতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে দৈনিক ১০ লিটার তেল নেওয়ার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিক্যাল (এসইউভি) ও মাইক্রোবাস প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি নিতে পারবে।

বিপিসি আরও জানিয়েছে, পিকআপ বা স্থানীয় বাস প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে। দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান বা কনটেইনার ট্রাকের জন্য দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল বরাদ্দ থাকবে। এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো সুষমভাবে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং অযথা মজুত বা অতিরিক্ত কেনাকাটা ঠেকানো।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, দেশের মোট ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বৈশ্বিক সংকটের কারণে কখনো কখনো আমদানি প্রক্রিয়ায় বিলম্ব বা বাধা তৈরি হয়। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে জ্বালানি মজুদ নিয়ে নেতিবাচক খবর ছড়িয়ে পড়ায় ভোক্তাদের মধ্যে অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবাইকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি না কেনার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।